বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ঈদের মাংস খেয়েও শরীর থাকবে ঠান্ডা, জানুন উপায়

dhaka-biye-5-640×360

ঈদুল আজহা মানেই গরু-খাসির মাংসের বাহারি আয়োজন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভুনা, কাবাব, রেজালা, কালাভুনা কিংবা ঝাল মসলাদার নানা পদ ছাড়া যেন কোরবানির ঈদ পূর্ণতা পায় না। তবে এবার ঈদ এসেছে তীব্র গরমের মধ্যে। ফলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার কারণে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, পানিশূন্যতা কিংবা শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে পারেন। তাই ঈদের ভুঁরিভোজ উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা জরুরি।

ডাবের পানি: গরমে স্বস্তির প্রাকৃতিক পানীয়

গরমের দিনে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়। ডাবের পানি সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে। ভারী খাবারের পর এক গ্লাস ডাবের পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ক্লান্তিও দূর করে।

দই-ছোলা চাট: হালকা ও পুষ্টিকর

মাংসের ভারী খাবারের ফাঁকে দই-ছোলা চাট হতে পারে দারুণ একটি স্বাস্থ্যকর পদ। সেদ্ধ ছোলা, ঠান্ডা দই, পেঁয়াজ, টমেটো ও হালকা মসলার সংমিশ্রণে তৈরি এই খাবার পেট ভরা রাখে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়তা করে। ঈদের নাস্তায় এটি সহজেই যোগ করা যেতে পারে।

তরমুজ ও বাঙ্গি: পানিতে ভরা গ্রীষ্মের ফল

গরমের সময়ে তরমুজ ও বাঙ্গির মতো ফল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পানিশূন্যতা কমে। মাংসের খাবারের মাঝখানে ফল খেলে শরীরও হালকা অনুভূত হয়।

আমের কুলফি: ভরপেট খাবারের পর মিষ্টি প্রশান্তি

পাকা আম, দুধ ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি আমের কুলফি হতে পারে ঈদের উপযুক্ত ডেজার্ট। এর ঠান্ডা ও সতেজ স্বাদ ভারী খাবারের পর আরাম দেয়। ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এই মজাদার খাবার।

পুদিনা-লেবুর শরবত: হজমেও উপকারী

পুদিনা পাতা ও লেবু দিয়ে তৈরি শরবত শুধু শরীর ঠান্ডাই রাখে না, হজমেও সাহায্য করে। অতিরিক্ত গরমে ক্লান্তি কমাতে এটি বেশ কার্যকর। সফট ড্রিংকসের বদলে প্রাকৃতিক এই পানীয় শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন-

  • একবারে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
  • সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার কম খান
  • কোল্ড ড্রিংকসের বদলে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিন
  • দুপুরের প্রচণ্ড গরমে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

ঈদ আনন্দের উৎসব হলেও স্বাস্থ্য সচেতন থাকাও জরুরি। একটু পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস গরমের এই ঈদকে আরও আরামদায়ক ও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।

ঈদঠান্ডামাংসশরীর