বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
বিবিধ

‘ভাতার ওপর নির্ভরশীল মানুষ নয়, স্বাবলম্বী নাগরিক চাই’

ফারজানা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, সরকার চায় মানুষ শুধু সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে জীবন চালাক—এমন পরিস্থিতি না থাকুক। বরং মানুষ যেন নিজের দক্ষতা ও কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম ছিল। উপকারভোগীর তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল নিয়মিত। অনেক সময় দেখা যেত, কার্ড একজনের নামে হলেও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট অন্য কারও। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতেন।

সরকার এখন এসব সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে। জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী কমবে এবং দুর্নীতির সুযোগও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো দেশের অনেক জায়গায় তথ্য হাতে-কলমে সংগ্রহ করা হয়। ফলে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে। কোথাও হয়তো পাকা বাড়ির মালিককে গরিব দেখানো হয়েছে, আবার প্রকৃত দরিদ্র কেউ বাদ পড়েছেন। এসব ভুল সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করতে চায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য এক জায়গায় এনে একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তা সহজে নির্ধারণ করা যাবে এবং একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে।

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় চার কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু ভাতা দেওয়া নয়। মানুষকে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করাই মূল লক্ষ্য। এজন্য ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধরনের উদ্যোগ নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ-সুবিধার অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, দেশের অনেক সরকারি ভবনেই এখনো র‌্যাম্প, উপযুক্ত টয়লেট বা সহজ যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য আইনগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সুপারিশপত্র লাগবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র ও সরকারি ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য সংযুক্ত হলে সরাসরি উপকারভোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব বা সুপারিশের প্রয়োজনও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাস্তার শিশু ও ভবঘুরেদের পুনর্বাসন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথমে তাদের খাবার ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এরপর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। শুধু সংখ্যার দিকে নয়, কাজের মানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারি সংশোধনাগারগুলোর খারাপ অবস্থার কথাও স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক জায়গার পরিস্থিতি খুবই খারাপ এবং কোথাও কোথাও যারা সংশোধনের দায়িত্বে আছেন, তাদেরও পরিবর্তন প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিজের দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বাইরে থেকে প্রশাসনের যেসব সমস্যা দেখা যায়, ভেতরে এসে সেগুলো আরও জটিল মনে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া একটি সংস্কৃতি অল্প সময়ে বদলানো সম্ভব নয়। তবে সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

পুতুলফ্যামিলি কার্ডভাতাস্বাবলম্বী