বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনশনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
নারী

সীমাবদ্ধতার অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে সাহসী কিশোরী

ঢাকার মিরপুর–১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ব্যস্ত ফুটপাতে প্রতিদিন দেখা মেলে এক সাহসী কিশোরীর। ছোট্ট একটি ঝুড়িতে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য সাজিয়ে বসে থা...

WhatsApp Image 2026-05-16 at 7.48.43 PM

ঢাকার মিরপুর–১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ব্যস্ত ফুটপাতে প্রতিদিন দেখা মেলে এক সাহসী কিশোরীর। ছোট্ট একটি ঝুড়িতে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য সাজিয়ে বসে থাকে সে। পথচারীরা কেউ পণ্য কেনেন, কেউ আবার বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন তার আত্মবিশ্বাসের দিকে। কারণ মেয়েটি চোখে দেখতে পায় না। তবুও জীবনের সঙ্গে লড়াই থামিয়ে দেয়নি এক মুহূর্তের জন্য।

মিরপুর–১৪ এলাকায় তার বসবাস। জীবনের পথটা তার জন্য কখনো সহজ ছিল না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—তার পাশে নেই কোনো আত্মীয়–স্বজন কিংবা শক্ত কোনো পারিবারিক সহায়তা। নিজের জীবন নিজেকেই গড়ে নিতে হয়েছে। আর সেই বাস্তবতা থেকেই শুরু হয় তার ছোট্ট ব্যবসার পথচলা।

সমাজে আমরা প্রায়ই নারীদের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা কিংবা অসহায়ত্বের গল্প শুনি। শুনি সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে পড়ার গল্প। এর মধ্যেই থাকে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র। ঠিক তেমনি এই মেয়েটির জীবন যেন সেই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত এক বাস্তবতা।

দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও সে কারও করুণা নয়, নিজের পরিশ্রমের ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি করা হয়তো সহজ কোনো কাজ নয়; বিশেষ করে একজন নারীর জন্য, যার চোখে পৃথিবী দৃশ্যমান নয় শুধুই অন্ধকার। তবুও সে প্রতিদিন সাহস নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিজের স্বপ্ন আর দায়িত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে।

প্রতিদিন লাঠির সাহায্যে পথ চিনে সে পৌঁছে যায় হোপ মার্কেটে। সেখানে বসে ইয়ারফোন, ছোটখাটো গ্যাজেট, ছাতা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি করে। মানুষের সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গিতে স্পষ্ট বোঝা যায়, নিজের সীমাবদ্ধতাকে সে কখনো দুর্বলতা মনে করেনি। বরং আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম দিয়েই নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নের কথা আমরা অনেক বলি। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই ঘটে, যখন একজন নারী নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে সমাজে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। এই কিশোরী ঠিক সেটাই করে দেখাচ্ছে। সে কারও বোঝা হয়ে বাঁচতে চায়নি; বরং নিজের পরিশ্রম দিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবন গড়ে নিতে চেয়েছে।

তার গল্প শুধু অনুপ্রেরণার নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আমরা অনেক সময় শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে একজন মানুষের সামর্থ্যের শেষ সীমা মনে করি। অথচ বাস্তবতা হলো—সুযোগ, সাহস এবং আত্মবিশ্বাস পেলে তারাও সমাজের সক্রিয় অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কিশোরীদৃষ্টিশক্তিহীনব্যবসামিরপুর–১০সীমাবদ্ধতা