২০ হাজার টাকায় ২ লাখ লাভ: প্রতারণার জালে শতাধিক নারী
কক্সবাজার শহরে মাত্র ২০ হাজার টাকা জমা দিলেই দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক নারীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ‘...

কক্সবাজার শহরে মাত্র ২০ হাজার টাকা জমা দিলেই দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক নারীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ‘সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ করেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় হতবাক ও দিশেহারা ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার পৌরসভার সাবমেরিন কেবল এলাকার চৌধুরীপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন আবদুর রহমান ও নুরুল আমিন নামের দুই ব্যক্তি। সেখানে ‘সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কক্সবাজার সদর শাখা’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে শুরু করেন কার্যক্রম। কয়েকটি টেবিল-চেয়ার দিয়ে সাজানো হয় অফিস, যাতে সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়।
এরপর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নারীদের টার্গেট করে শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদ। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়—মাত্র ২০ হাজার টাকা জামানত দিলেই দুই বছরের ২৪ কিস্তিতে পাওয়া যাবে দুই লাখ টাকা ঋণ। পাশাপাশি প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথাও বলা হয়। এমন লোভনীয় অফারে কলাতলী, খুরুশকুল, লিংক রোড ও পিএমখালিসহ বিভিন্ন এলাকার নারীরা আকৃষ্ট হন।
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে শতাধিক নারীর কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করে প্রতারক চক্র। অনেকেই গরু-ছাগল বিক্রি করে, গহনা বন্ধক রেখে কিংবা কষ্টের সঞ্চয় ভেঙে টাকা জমা দেন।
খুরুশকুল ডেইলপাড়ার মর্জিনা আক্তার জানান, তাকে প্রতিনিধি বানানোর আশ্বাস দিয়ে পাঁচ নারীর কাছ থেকে ৬২ হাজার টাকা সংগ্রহ করানো হয়। তিনি সেই টাকা নুরুল আমিনের হাতে তুলে দেন। তার দাবি, শুধু খুরুশকুলের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পিএমখালি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুলবুল আক্তার বলেন, “সাত কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। ফরমে সই নিয়ে বলেছিল দুই লাখ টাকা পাব। এখন অফিসে তালা ঝুলছে।” একই এলাকার হোসনে আরা বেগম জানান, মঙ্গলবারও তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই বন্ধ পাওয়া যায় সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জরুরি সভা’ আছে বলে অফিস থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার। এরপর থেকেই অফিস বন্ধ এবং মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বাসার মালিক মোশাররফ হায়দার বলেন, বুধবার চুক্তিপত্র সম্পাদনের কথা থাকলেও তার আগেই উধাও হয়ে যায় তারা। অফিসের আসবাবপত্র ও বাসা ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করা হয়নি। পরে অসংখ্য প্রতারিত নারী তার বাসার সামনে ভিড় করলে তিনি সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবদুর রহমানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এবং নুরুল আমিনের বাড়ি গাজীপুরে। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মাদ আলী বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


