‘ছাত্রী উইং’ আসছে ইসলামী আন্দোলনে
চরমোনাই পীরের হাতে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী আন্দোলনের কোনো নারী ইউনিট ছিল না। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গত বছ...

চরমোনাই পীরের হাতে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী আন্দোলনের কোনো নারী ইউনিট ছিল না। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করে দলটি।
এবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাংগঠনিক বিস্তার ও নারী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে এবার আলাদা ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ঈদুল আজহার পর নতুন এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলটির নেতারা বলছেন, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কেন প্রয়োজন আলাদা ছাত্রী সংগঠন?
দলীয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রচলিত মহিলা ইউনিটের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যাশিত মাত্রায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রজন্মগত ব্যবধান ও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতাকেও এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণেও নারীদের অংশগ্রহণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। সেখান থেকেই আলাদা ছাত্রী সংগঠনের ধারণা সামনে আসে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংগঠনটির কাঠামো, নেতৃত্ব নির্বাচন ও কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যে ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মাসিক সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সভায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ঈদুল আজহার পর সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা আছে।
মাঠের রাজনীতি নাকি দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রম?
ছাত্রী উইংয়ের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। সূত্রগুলো জানায়, সংগঠনটি সরাসরি মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবে নাকি মূলত দাওয়াহ, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে—এ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের অনুমোদনের পর সংগঠন গঠনের বিষয়ে শীর্ষ নেতারা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। দলটির নেতারা মনে করছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোকে ঘিরে নারীদের বিষয়ে যে নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত রয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হবে।
নেতৃত্বে আসতে পারেন আলেমা ও পেশাজীবীরা
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতোই নতুন ছাত্রী উইংও মূল দলের নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সদস্যদের নিয়ে প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হতে পারে। সূত্র জানায়, আলেমা, চিকিৎসক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও সাংগঠনিক বিস্তারে জোর
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, নারী শিক্ষার্থীদের কেবল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সমাজকল্যাণ ও দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা শহরভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল নেটওয়ার্কিংয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমেও এই সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, নতুন ছাত্রী উইংয়ের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকবে। তবে এটি ইসলামী আন্দোলনের অধীনেই পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। নারীদের নৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ করে তোলাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।


