বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনশনিবার, ৯ মে, ২০২৬
বিবিধ

গুলশান লেক পার্কে শুরু হলো ‘ডগ ওয়াকিং ক্লাব’

ঢাকার পার্কগুলোতে সাধারণত একটি দৃশ্য খুব পরিচিত- সকালের হাঁটা, বিকেলের আড্ডা, শিশুদের ছোটাছুটি, কিংবা লেকের ধারে কিছু নীরবতা খুঁজে নেওয়া মানুষ। কিন্তু...

গুলশান লেক পার্কে শুরু হলো ‘ডগ ওয়াকিং ক্লাব’

ঢাকার পার্কগুলোতে সাধারণত একটি দৃশ্য খুব পরিচিত- সকালের হাঁটা, বিকেলের আড্ডা, শিশুদের ছোটাছুটি, কিংবা লেকের ধারে কিছু নীরবতা খুঁজে নেওয়া মানুষ। কিন্তু সেই পরিচিত ছবির বাইরে এতদিন আরেকটি অনুপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। পোষা প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর, শহরের অধিকাংশ পার্কেই ছিল নিষিদ্ধ।

সেই বাস্তবতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলো গুলশান সোসাইটি লেক পার্ক। প্রথমবারের মতো এখানে চালু হয়েছে ‘Dog Walking Club’- গুলশান সোসাইটি এবং আহোনা ও নাদিয়া হোসেনের Pampered Paws-এর যৌথ উদ্যোগে। এটি কেবল একটি ক্লাব নয়; বরং নগর জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির এক ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

শুধু মানুষের জন্য নয়, সম্পর্কের জন্যও পার্ক

একটি পার্ক আসলে শুধু হাঁটার জায়গা নয়। এখানে মানুষ একটু ধীর হয়। গাছের দিকে তাকায়, লেকের পানিতে আলো পড়তে দেখে, পরিচিত কাউকে দেখে হাসে। অনেকের কাছে পোষা প্রাণীও পরিবারের অংশ। তাই তাদের সঙ্গে একটু হাঁটতে চাওয়াটাও খুব স্বাভাবিক, এক মানবিক চাওয়া।

বিশ্বের অনেক শহরে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান মানুষ ও পোষা প্রাণীর যৌথ ব্যবহারের জায়গা হয়ে উঠেছে বহু আগেই। ঢাকায় সেই সংস্কৃতি এখনও নতুন। তবে গুলশানের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, সহাবস্থান অসম্ভব নয়- যদি থাকে পারস্পরিক সম্মান ও সচেতনতা।

সংবেদনশীলতার জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি যে সংবেদনশীল, সেটিও স্বীকার করছেন আয়োজকেরা। অনেক মানুষের ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় আপত্তি থাকতে পারে- এবং সেই অনুভূতির প্রতিও রাখা হয়েছে সম্মান।

তাই ডগ ওয়াকিংয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এমন সময়, যখন পার্কে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এবং রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ডগ ওয়াকাররা পার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।

একই সঙ্গে রাখা হয়েছে কিছু কঠোর শর্তও। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পোষা প্রাণী নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্য দর্শনার্থীদের প্রতি সম্মান দেখানো- এসব নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে কার্যক্রম।

বদলে যাচ্ছে শহরের নাগরিক সংস্কৃতি

ঢাকার জীবন প্রতিদিন আরও ব্যস্ত, আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে। কংক্রিটের শহরে মানুষ ধীরে ধীরে হারাচ্ছে উন্মুক্ততা, সামাজিক সংযোগ, এমনকি মানসিক স্বস্তির জায়গাগুলোও। সেখানে একটি লেকপাড়, কিছু সবুজ, আর প্রিয় কোনো প্রাণীর সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত কাটানো অনেকের জন্য মানসিক স্বস্তির উৎস হতে পারে।

শহরকে বাসযোগ্য করে তোলে কেবল অবকাঠামো নয়; বরং মানুষে মানুষে সহনশীলতা, ভিন্ন জীবনধারাকে জায়গা দেওয়ার মানসিকতা, আর ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগ।

গুলশান লেক পার্কের এই উদ্যোগ হয়তো খুব ছোট একটি পদক্ষেপ। কিন্তু এটি দেখাচ্ছে- বন্ধ ফটকের ওপারেও নতুন ধরনের নাগরিক সংস্কৃতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যেখানে সহাবস্থান মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, বরং একে অপরের জায়গাকে সম্মান করে এগিয়ে চলা। হয়তো এভাবেই শহর একটু নরম হয়। একটু বেশি মানবিক হয়।

গুলশান লেকডগ ওয়াকিং ক্লাব