বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনশনিবার, ৯ মে, ২০২৬
নারী

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের জন্য নতুন ব্যবস্থা

রাজধানীতে এলোমেলোভাবে বাস থামানোর কারণে অন্য যানবাহন চলাচলে তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা, সৃষ্টি হয় যানজটের। তাই রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে না...

ঢাকার গণপরিবহনে নারীদের জন্য নতুন ব্যবস্থা

রাজধানীতে এলোমেলোভাবে বাস থামানোর কারণে অন্য যানবাহন চলাচলে তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা, সৃষ্টি হয় যানজটের। তাই রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে আছে স্বল্প মেয়াদে নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা ও বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং, মধ্য মেয়াদে বাসরুট রেশনালাইজেশন, বিদ্যুৎ–চালিত বাস চালু এবং মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট বা মনোরেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করছে। এর বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর অংশ হিসেবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ৩৮ পৃষ্ঠার একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে আগামী ছয় মাস এবং আগামী অর্থবছরে করণীয় কী, তা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সড়ক ও পরিবহন খাতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, তার বিবরণ আছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ৩৮ পৃষ্ঠার একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে আগামী ছয় মাস এবং আগামী অর্থবছরে করণীয় কী, তা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সড়ক ও পরিবহন খাতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, তার বিবরণ আছে। নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ঢাকার কিছু রুটে ‘নারী যাত্রী বাস (পিংক বাস)’ চালুর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ও ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে আসা পরামর্শ এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা—দুটির সমন্বয়ে কাজ চলছে। মূল লক্ষ্য হলো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং যাত্রীসেবা উন্নত করা। অচিরেই এর ফল পাওয়া যাবে। কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে ৯টি বাস চালু করা হবে। এই বাসগুলোতে চালক ও সহকারী হিসেবে নারীরাই কাজ করবেন। এ জন্য নারী চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, এতে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ দুই-ই বাড়বে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়াতে কিছু প্রণোদনা রাখা হয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায়। এর মধ্যে আছে উত্তরা মেট্রোরেল স্টেশনকেন্দ্রিক রাইড শেয়ারিং সাইকেল সেবা চালুর উদ্যোগ। এর আওতায় উত্তরা এলাকায় ছয়টি সাইকেলস্ট্যান্ড নির্মাণ ও ১৫০টি সাইকেল সরবরাহ করা হবে। প্রায় ৬ কিলোমিটার সাইকেল লেন তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সড়ক মন্ত্রণালয়।

ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে দীর্ঘদিন ধরে বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি নেই। নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আনা, সমন্বিত ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনা এবং বাসরুট র‍্যাশনালাইজেশন করার কথা বলেছিল।এবার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এ নিয়ে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মধ্যমেয়াদি এই পরিকল্পনায় রাজধানীর বিদ্যমান ২১ ও ২৬ নম্বর রুটে নতুন নামানো এবং আরও কিছু নতুন রুট চালুর কথা বলা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে নারীদের জন্য ৯টি বাস চালু করা হবে। এই বাসগুলোতে চালক ও সহকারী হিসেবে নারীরাই কাজ করবেন। এ জন্য নারী চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, এতে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ দুই-ই বাড়বে। বাসরুট রেশনালাইজেশন হচ্ছে—রাজধানীর সব কটি বাস রুটকে অল্প কয়েকটি রুটে নিয়ে আসা। অল্প কিছু কোম্পানির অধীনে একই রঙের বাস চলাচল করবে। কেউ কারও আগে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামবে। দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধ হবে।

গণপরিবহনে জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ–চালিত বাস চালুর পরিকল্পনাও আছে সরকারের। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন হিসেবে বিদ্যুৎ–চালিত বাস আমদানি করা হলে শুল্ক ছাড়ের কথাও বলা হয়েছে ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়। গণপরিবহনের মানোন্নয়নে বাসের কন্ডাক্টর ও সুপারভাইজারদের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে সড়ক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায়। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ হাজার কর্মীকে এই লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মেট্রোরেল ও দূরপাল্লার পরিবহনে বিশেষ ভাড়া ছাড় চালুর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি আড়াই হাজার পরিবহনশ্রমিককে ইউনিফর্ম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকবে গ্রীষ্ম ও শীতকালীন পোশাক ও জুতা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসরুট রেশনালাইজেশন পূর্ণরূপে চালু করা গেলে আলাদা করে চালকদের নিয়ে পরিকল্পনার দরকার হবে না।

গণপরিবহননারীপাবলিক ট্রান্সপোর্টপিংক বাসবিএনপিমনোরেলসাইকেল রাইড