বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
নারী

কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি ডলি বেগম

69df7a35caef3

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (স্থানীয় সময়) অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি অফ কানাডা সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল, যা ডলি বেগমের বিজয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। বর্তমানে পার্লামেন্টে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪।

এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন সরকারের আইন পাস এবং নীতিনির্ধারণ কার্যক্রম আরও সহজ হবে। ফলে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার এমপিপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে প্রথমবার, ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ গত বছর তৃতীয়বার তিনি বিজয়ী হন। কানাডার কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি।

চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের অবসরের পর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পান ডলি বেগম। লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় ডলি বেগম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ কানাডা গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কারবোরো এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা এখন জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগাতে চান।

মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর তীরবর্তী এলাকায় জন্ম নেওয়া ডলি বেগম ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

এদিকে ডলি বেগমের বিজয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই জয় ডলির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্বগুণ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব কানাডাকে আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল পর্যায়ে ডলি বেগমের এই উত্তরণ তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি এটি কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মূলধারার রাজনীতিতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।

কানাডাডলি বেগমফেডারেল এমপিবাংলাদেশি বংশোদ্ভূত