বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
খাবার-দাবার

যা দিয়ে খেতে পারেন পান্তা

Panta_Ilish

বছরজুড়ে যে বাসি ভাত রাতভর হাঁড়ির কোনায় পড়ে থাকে, বৈশাখের দিন সেই ভাতের কী সমাদর! বৈশাখে পান্তার সঙ্গে ইলিশ ভাজা কবে এসে মিশেছে তা বলা মুশকিল। তবে পান্তার সঙ্গে ইলিশ খেতে মন্দ লাগে না। তবে পান্তা খাওয়া যায় আরও নানা উপায়ে। যেমন অনেকে আলু ভর্তা ও ডিম ভাজি দিয়ে পান্তা ভাত খেতে অনেকে পছন্দ করেন। আবার কেউ কেউ পছন্দ করেন শুকনা মরিচ ভাজা ও পেয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খেতে। তবে যা দিয়েই খান না কেন, পান্তাটি হতে হবে যুতসই। পান্তা ভাত তৈরি করতে সাধারণত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। শহুরে সংস্কৃতিতে অনেকে ভাত রান্নার পরই পানি ঢেলে সেটা খেতে শুরু করেন পান্তা হিসেবে। এভাবে পান্তা তৈরি করলে প্রকৃত স্বাদ কোনোভাবেই পাওয়া যাবে না।চালের ক্ষেত্রে বলা জরুরি, চিকন চালের পান্তার চেয়ে কিছুটা মোটা চাল নেওয়ার চেষ্টা করুন। আমন ধানের চালে সবচেয়ে ভালো পান্তা বানানো যায়। কারণ, এই চাল বেশি মাংসালো, ভিজিয়ে রাখলে সহজে নরম হয়ে যায়, খেতেও মিষ্টি লাগে।

বাংলার গ্রামীণ জীবনে পান্তার সবচেয়ে কমন সহযোগী এই কাঁচা মরিচ ও কাঁচা পেয়াজ। প্লেটে পানিসহ পান্তা ভাত নিয়ে তার মধ্যে কাঁচা পেয়াজ, মরিচ ও লবণ দিয়ে হাতে ডলে নিতে হবে। এভাবে পান্তা খেলে পান্তা ভাতের নিজস্ব গন্ধটা সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়। সঙ্গে কাঁচা মরিচ ও পেয়াজের ঝাঁজ নাকে এসে লাগে। তবে ঝাল ভালোবাসলে একটা কাঁচা মরিচের সঙ্গে অর্ধেক পরিমাণ বোম্বাই মরিচ মিশিয়ে নিলে ঘ্রাণ আরও প্রকট হয়, স্বাদও বাড়বে।

সেক্ষেত্রে শুকনা মরিচ সাধারণত আমরা চুলায় টেলে তারপর পান্তা ভাতে মেশাতে হয়। অনেকে কোনো ভাজাভুজির পর তেলতেলে কড়াইতে শুকনা মরিচ ভেজে নিন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় তাওয়ায় টেলে না নিয়ে সরাসরি আগুনে পোড়ানো। একটা চিকন কাঠি বা শিকের মধ্যে শুকনা মরিচ গেঁথে নিয়ে সেটা চুলার আগুনের ওপর এপিঠ-ওপিঠ করে সেঁকে নিন। এরপর সেই পোড়া মরিচ পেয়াজ, লবণসহ পান্তা ভাতে ডলে মেখে নিন।এবার একটা লোকমা মুখে তুললেই দেখবেন স্মোকি একটা ফ্লেভার এসে প্রথমে নাকে লাগবে, তারপর মুখ পেরিয়ে বাকি ইন্দ্রিয়গুলোতে পৌঁছাবে।

এছাড়া কচুর মুখি দিয়ে ইলিশ রান্না হয় অনেক বাড়িতে। খেতে দারুণ লাগে, তবে এই জুটির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন পান্তা ভাত। আগের রাতে রান্না করা কচুর মুখি দিয়ে ইলিশ মাছের ঝোল রেখে দিন একটা পাত্রে।তারপর সকালে টালা শুকনা মরিচ দিয়ে আগে প্লেটের ভাতটা মাখিয়ে নিন। লবণ কতটা দেবেন, সেটা নিজেই আন্দাজ করে নিতে পারবেন। এরপর তাতে মেশান বাসি ইলিশের ঝোল। কচুর মুখিগুলো হাতে ভেঙে নিন। এবার খেয়ে দেখুন, মুখে লেগে থাকবে।

আবার, কালিজিরা বেটে পেঁয়াজকুচি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভর্তা করে নিতে হবে। এরপর পান্তা ভাত লবণ দিয়ে চটকে নিয়ে তার সঙ্গে মেশাতে হবে কালিজিরাভর্তা। এই পান্তার স্বাদ কিছুটা এক্সোটিক ধরনের। এই পান্তায় কালিজিরার স্বাদ-গন্ধ খুব শক্তভাবেই পাওয়া যায়। যারা ভেষজ খাবারের প্রতি প্রবল টান অনুভব করেন, তাদের কাছে ভালো লাগবে কালিজিরা ভর্তায় পান্তা ভাত। আবার পান্তা ভাত খাওয়া যায় এ ঝিরি ঝিরি আলুভাজি অথবা আলু-করলার মুচমুচে ভাজির সঙ্গেও।সাথে নিতে পারেন দুই এক পিস আচারি বেগুন। নানার রকম ভর্তার সাথেও পান্তার জুড়ি মেলা ভার।

ইলিশপহেলা বৈশাখপান্তাপান্তা কী