বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ ভারোত্তোলক মাবিয়া

Mabia-69db1251dcf20

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন বাংলাদেশের তারকা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এতে দুই বছরের জন্য তাকে ভারোত্তোলন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মাবিয়া।

গতবছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শেষে মাবিয়া ডোপিং টেস্টে পজিটিভ হন। গেমস শুরুর আগে নেওয়া তার নমুনায় নিষিদ্ধ ডাইইউরেটিক্স পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ‘ওয়াটার পিল’ নামে পরিচিত। এর ভিত্তিতে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ওয়াদা কোড অনুযায়ী তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাদারীপুরের সেই সাধারণ টংঘর থেকে উঠে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভারোত্তোলনে রাজত্ব করেছিলেন মাবিয়া। ২০১৬ এসএ গেমসের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন দেশের জাতীয় সংগীত শুনছিলেন, মাবিয়া আক্তার সীমান্তের সেই অশ্রুসজল চোখ নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চরম দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা জয় করা সেই অদম্য অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারে এবার নেমে এল বড় এক ধাক্কা।

ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় ‘ওয়াটার পিল’ অত্যন্ত কার্যকর হলেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, এই ওষুধ শরীরে অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি আড়াল করতে ‘মাসকিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে। প্রথম দফার পরীক্ষার পর দ্বিতীয় দফার (বি-স্যাম্পল) পরীক্ষাতেও একই ফল আসায় মাবিয়ার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবশ্য নিয়মানুযায়ী তিনি এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে শাস্তির খবরে ভেঙে পড়লেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন মাবিয়া। তাঁর দাবি, তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শে চোটের চিকিৎসা নিতে গিয়েই বিপদে পড়েছেন। মাবিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি হাঁটুর ব্যথা আর অ্যালার্জির জন্য ওষুধ খেয়েছিলাম। বিওএ থেকে আমাদের সব সময় বলা হয়, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিছু না খেতে। আমি সেটাই করেছি, গোপনে কিছু খাইনি। আমার কাছে সব প্রেসক্রিপশন আছে।’

নিষেধাজ্ঞার খবর নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিওএ-র সেমিনারে শেখানো হয়েছিল যা–ই খাব, সেটার যেন প্রেসক্রিপশন থাকে। কিন্তু এটা কখনো বলা হয়নি যে কোন কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না। ফলে আমি তো আর জানি না কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শে আমি ওষুধ খেয়েছি। অথচ আজ প্রেসক্রিপশন থাকার পরও আমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিওএর প্যাডে চিঠি পাঠানো হয়েছে আমাকে। কিন্তু সেই চিঠির সঙ্গে ওয়াডার কপিটিও দেওয়া হয়নি।’

২০১২ সালে জাতীয় দলে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়ার ঝুলিতে আছে আন্তর্জাতিক পাঁচটি সোনা। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দুবার সোনা জিতেছেন। এখন সেই গৌরবের পাশাপাশি যোগ হলো নিষেধাজ্ঞার দাগ। তবে হাল ছাড়ছেন না মাবিয়া। ১৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ডোপ টেস্টদক্ষিণ এশিয়ানিষিদ্ধভারোত্তোলকমাবিয়া