বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, তবু চীনের কাছে হারলো বাংলাদেশ

play

অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ এ গৌরবের সাথে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা খেলা শুরু করলেও প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তারা হেরে যান। দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিপক্ষে হারলেও তাদের লড়াইতে মুগ্ধ চীনা খেলোয়াড়রা। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বেশ ভালো লড়াই করে বাংলাদেশের মেয়েরা। রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখতে পারলেও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হারের আক্ষেপের পর এটি এই আসরে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার।

প্রথমার্ধে আজ চীনের ফরোয়ার্ডদের জন্য হতাশার নাম ছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার। সিনিয়র এশিয়ান কাপে রূপনা চাকমার জায়গায় সুযোগ পেয়ে মিলি এই বয়সভিত্তিক দলেও আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ২৫ মিনিটে চীনের ওয়াং আইফাংয়ের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৪৪ মিনিটে ইয়ু জিংওয়াউ একা পেয়ে গেলেও দুর্দান্ত এক সাহসী সেভে দলকে বাঁচান মিলি। আঙুলের ছোঁয়ায় একটি নিশ্চিত ফ্রি-কিক গোলও রুখে দেন তিনি। বিপরীতে প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশ প্রথমবার আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায়। তবে মোসাম্মৎ সাগরিকার নেওয়া সেই শট সহজেই রুখে দেন চীনের গোলরক্ষক।দারুণ রক্ষণ সামলে প্রথমার্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ৪৮ মিনিটে জেং ইয়ু জিয়ার দারুণ এক পাস থেকে গোল করে চীনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইয়ু জিংওয়াউ। গোল হজমের পরও মিলি আক্তার চীনের একের পর এক আক্রমণ আটকাতে থাকেন। ৫৭ মিনিটে ওয়াং আফিয়াংয়ের নেওয়া ফ্রি-কিকের শটটি সরাসরি রুখে দেন তিনি। ৭০ মিনিটে আফিয়াংয়ের একটি পাস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে হুয়াং জিয়াজিন হেড করলে সেটিও অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন মিলি। এরপরে বাংলাদেশ গোল সমতা আনার মতো আক্রমণ বা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উলটো ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে চীন। ফ্রি কিক থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ওয়াং। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পিটার বাটলারের শিষ্যদের। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে মুগ্ধ চীনা খেলোয়াড়রা। তাই খেলা শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের ডাগআউটের সামনে এসে কুর্নিশ করে সম্মান জানান তারা।

প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনও হারায়নি বাংলাদেশের মেয়েরা। দুই ম্যাচ পর বাঘিনীদের পয়েন্ট শূন্য ও গোল ব্যবধান ৩। আগামী ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলে কিংবা ড্র করলে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হতে পারে। তখন অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকলে কোয়ার্টারে খেলবে বাংলাদেশ। যা হবে নারী ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক।

এশিয়ান কাপচীনবাংলাদেশহার