বিরল রোগে আক্রান্ত অলকা ইয়াগনিক, হারাচ্ছেন শ্রবণশক্তি

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা অলকা ইয়াগনিক দীর্ঘদিন ধরে এক বিরল শ্রবণজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন।যা শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনই নয়, পেশাগত পথচলাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি সেন্সরিনিউরাল নার্ভ হিয়ারিং লসে ভুগছেন। এই জটিল অসুস্থতার কারণে তিনি নতুন কোনও সংগীত প্রকল্পে অংশ নিতে পারছেন না। যদিও সুরকাররা এখনও তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখান, বাস্তবতা হলো, তিনি নিজেই সেই সক্ষমতা ফিরে পাননি।
এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালে। একটি আবেগঘন সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তিনি প্রথম বিষয়টি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, একটি আকস্মিক ভাইরাল সংক্রমণের পর হঠাৎ করেই তার শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানের যাত্রা শেষে নেমে তিনি অনুভব করেন, চারপাশ যেন সম্পূর্ণ নীরব। সেই অপ্রস্তুত মুহূর্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের শ্রবণ সমস্যা সাধারণত অভ্যন্তরীণ কানের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অলকা নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি এখনও এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রেখে এসেছেন। টিপ টিপ বারসা পানি, চান্দ চুপা বাদাল মে, আগার তুম সাথ হো সহ প্রতিটি গানই তার কণ্ঠের যাদুতে হয়েছে অনন্য।তার সর্বশেষ গাওয়া গান ছিল ‘নারাম কালজা’ , যা নির্মিত হয়েছিল অমর সিং চামকিলা ছবির জন্য। ছবিটির পরিচালক ছিলেন ইমতিয়াজ আলী এবং সুরকার এ আর রহমান। এরপর থেকে নতুন কোন কাজ করেননি।
তবে ব্যক্তিগত সংগ্রামের মাঝেও স্বীকৃতি এসেছে। চলতি বছর ভারত সরকার তাকে সম্মানিত করেছে পদ্মভূষণ পুরস্কারে। কঠিন এই সময়ে ভক্তদের কাছে সমর্থন ও প্রার্থনা চেয়েছেন অলকা। একইসঙ্গে তিনি সবাইকে উচ্চ শব্দ ও অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। যেন অন্য কেউ তার মতো আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হয়।কেননা, একজন শিল্পীর জন্য শ্রবণশক্তি শুধু একটি ইন্দ্রিয় নয়, এটি তার সৃষ্টির ভিত্তি।



