পদ্মায় বাস দু/র্ঘট/না: মেয়েকে বাঁচিয়ে ছেলেকে হারালেন মা, নি/ভে গেল দুই শিশুর প্রাণ

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তান হারানোর হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া পন্টুন এলাকায় পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটিতে ছিলেন শাকিলা, তার ছেলে সাবিত (৮), মেয়ে সাবিহা, ননদ নিশি আক্তার এবং নিশির একমাত্র মেয়ে সোহানা (১০)। আনন্দভ্রমণের সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মৃত্যুযাত্রা।
প্রতিবেশীদের বর্ণনায় জানা যায়, দুর্ঘটনার পর শাকিলা অসীম সাহসিকতায় এক হাতে মেয়েকে ধরে সাঁতরে পন্টুনের কাছে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে তিনি অনুরোধ করেন তার মেয়েকে ধরতে, যাতে তিনি ফিরে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেন। তবে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে মা-মেয়েকে দুজনকেই টেনে উপরে তুলে আনেন। উদ্ধার হওয়ার পরপরই শাকিলা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় শাকিলার ছেলে সাবিত এবং নিশির মেয়ে সোহানা। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান শাকিলার মেয়ে সাবিহা ও ননদ নিশি।
জানা গেছে, নিশি আক্তার ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে বুধবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
বৃহস্পতিবার আগমারাই গ্রামে শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি শায়িত দুই শিশুর নিথর দেহ। শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা শরিফুল। সন্তানের পাশে বসে তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্ত্রী শাকিলা শোকে বাকরুদ্ধ, মাঝেমধ্যে বিলাপ করছেন হারানো ছেলের জন্য।
অন্যদিকে, একমাত্র সন্তান হারিয়ে নির্বাক নিশি আক্তার। অশ্রুশূন্য চোখে তাকিয়ে থাকছেন তিনি, মাঝে মধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্বজনদের সান্ত্বনাও যেন তাদের শোক প্রশমনে ব্যর্থ হয়ে পড়ছে।


