বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
বিবিধ

ঈদের সালামিতে নতুনত্ব চোখে পড়েছে এবার

6c54a6cb8e0f2b5bb2405f104329bb0d.jpg_960x960q80.jpg_

ঈদের সকাল মানেই নতুন পোশাক, রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা সেমাই, ফিরনি-পায়েস, পোলাও কিংবা কোরমার গন্ধ, আর চারদিক জুড়ে ছড়িয়ে পড়া উৎসবের আমেজ। এ সময়ে বাড়ি বাড়ি চলে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি। নতুন পাঞ্জাবি, টুপি আর গায়ে আতরের সুবাস মেখে দলে দলে ছেলে-বুড়োরা হেঁটে যায় ঈদগাহের দিকে। নামাজ শেষে শুরু হয় ‘ঈদ মুবারক’ শুভেচ্ছা বিনিময়ের উষ্ণতা, আর হাসিমাখা মুহূর্ত। আর বাড়ির ছোটরা এই সময়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে বড়দের। কারণ কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের পরেই আসে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত- ‘সালামি পর্ব’। ছোটরা একে একে বড়দের সামনে গিয়ে সালাম করে, আর বড়রা স্নেহভরা হাসি দিয়ে সে সালাম গ্রহণ করে হাতে গুঁজে দেন কিছু টাকা।

একসময় এই ‘সালামি প্রদান’ ছিল খুবই সহজ আর আন্তরিক এক রীতি। টাকার নোটগুলো হতো কখনো পুরোনো, কখনো নতুন। আর যদি নতুন কড়কড়ে নোট হয়, তাহলে আনন্দটাও হতো দ্বিগুণ। টাকার অঙ্কটা যে খুব বড় হতো তা একেবারেই নয়। কিন্তু তাতে যে ছোটদের সরল আনন্দ আর উচ্ছ্বাস এবং বড়দের স্নেহ-ভালোবাসা জড়িয়ে থাকত, সেটিই ছিল আসল প্রাপ্তি।

সময় বদলেছে। সঙ্গে বদলেছে চিরচেনা এই রীতির প্রকাশভঙ্গিও। এখন আর সালামি শুধু হাতে তুলে দেওয়া কিছু টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে নান্দনিক এক উপহারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, কীভাবে এই মজার রীতি জায়গা করে নিয়েছে ক্রাফটিং শিল্পে। টাকার নোটগুলোকে যত্ন করে ভাঁজ করে বানানো হচ্ছে ফুলের পাপড়ির মতো, কখনো কখনো কোনো ফুলের আদলে। তারপর চারপাশে সাজানো হচ্ছে কৃত্রিম ফুল, গ্লিটার সাজসজ্জা। তৈরি শেষে মোড়ানো হচ্ছে রঙিন র‍্যাপিং কাগজে। কখনো নীল, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লাল। দেখতে যেন কোনো কাঁচা ফুলের তোড়ার মতোই।কেউ প্রিয় মানুষকে চমকে দিতে এটি বেছে নিচ্ছেন, কেউ আবার কাউকে বিশেষ অনুভব করাতে। ফলে বলা যায় সালামি আর নিছক কোনো লেনদেনে আটকে নেই। বরং হয়ে উঠছে অনুভূতি প্রকাশের এক নতুন, সৃজনশীল ও শৈল্পিক মাধ্যম।

আবার, সরাসরি নগদ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বার্তা কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বড়দের কাছে সালামি চাইছেন। আবার বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ডিজিটাল সালামি এখন অনেক সহজ এবং নিরাপদ। দূরে থাকলেও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে মুহূর্তেই সালামি পাওয়া যায়। তবে আগে নতুন টাকার যে গন্ধ আর অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর তেমন পাওয়া যায় না।”

ঈদনতুনত্বসালামি