ঈদ শেষে কর্মমুখর শহরে ফিরছে মানুষ

ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি শেষে ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলো। গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কর্মজীবী মানুষ এখন ফিরছেন তাদের কর্মস্থলে। গত কয়েকদিন ধরে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়, যা যেন ঈদের আগমনের চিত্রকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—তবে এবার গন্তব্য উল্টো।
ঈদের ছুটি ঘিরে প্রতি বছরই শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরেন লাখো মানুষ। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, শৈশবের স্মৃতির পুনর্জাগরণ এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে এই যাত্রা এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও শুরু হয় কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার প্রস্তুতি।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে দেখা গেছে, মানুষজন ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে ফিরছেন, অনেকেই ক্লান্ত হলেও মুখে রয়েছে তৃপ্তির হাসি। কেউ ফিরছেন চাকরির তাগিদে, কেউ ব্যবসার প্রয়োজনে, আবার কেউ শিক্ষাজীবনে ফেরার জন্য। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবী ও কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ফিরতি যাত্রার চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের পরের দুই থেকে তিন দিন যাত্রীচাপ সর্বোচ্চ থাকে। বাস কাউন্টারগুলোতে অগ্রিম টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্রেনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে—অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে বা ছাদে করেও যাত্রা করছেন। তবে এবারের যাত্রা তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন যাত্রীরা, কারণ বড় ধরনের যানজট বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন কম ছিল।
ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি থাকলেও মানুষ তা মেনে নিচ্ছেন বাস্তবতার অংশ হিসেবে। কারণ জীবিকার প্রয়োজনে শহরে ফিরে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করা গেলে এই ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এদিকে শহরে ফিরতে শুরু করায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে, অফিস-আদালতে বাড়ছে উপস্থিতি। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নগরজীবন।
ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই জীবনের চেনা গতিতে ফিরে আসা—এই চক্র যেন প্রতি বছরই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, উৎসব ক্ষণস্থায়ী হলেও জীবনের গতি অবিরাম। আর সেই গতির সঙ্গেই তাল মিলিয়ে শহরে ফিরছে মানুষ, নতুন উদ্যমে শুরু করতে আরেকটি কর্মময় অধ্যায়।



