বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
বিবিধ

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন ট্রাকে

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরছেন ট্রাকে

শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি। এর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন লাখো মানুষ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে যমুনা সেতু-কেন্দ্রিক মহাসড়কে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে সকালবেলায় তুলনামূলক যানজট কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে থাকে।

পরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে পণ্যবাহী ট্রাকে করেই বাড়ি ফিরছেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাকগুলোতে নারী ও শিশুসহ যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে পাবনাগামী একটি ট্রাকের যাত্রীরা জানান, সকালে সড়কে যানজট কম ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে বাসভাড়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে।

চন্দ্রা থেকে বগুড়াগামী জাফর নামের এক যাত্রী বলেন, বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠেছেন। তিনি জানান, ৪০০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন এবং সকালে সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা ছিল।

অন্যদিকে, আবুল নামের এক গার্মেন্টস কর্মী পরিবারসহ ট্রাকে করে পাবনা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাসের তুলনায় ট্রাকে ভাড়া কম হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে এভাবেই যাত্রা করছেন।

এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে সিরাজগঞ্জগামী বাসভাড়া যেখানে প্রায় ৩৫০ টাকা, সেখানে ঈদ উপলক্ষে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের চেষ্টা করছেন কিছু পরিবহন মালিক।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এদিন টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

এর মধ্যে পূর্বমুখী যানবাহন ছিল ২০ হাজার ৭৫টি, যেখান থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। আর পশ্চিমমুখী যানবাহন ছিল ১৫ হাজার ৫৮৩টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সেতুতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই যমুনা সেতু। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে এসব এলাকার যানবাহনকে এই সেতু দিয়েই চলাচল করতে হয়।

ঈদঈদযাত্রা