Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক সহজ হোক

ছবিঃ সংগৃহীত

বাবা সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো। সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। সেই বাবাকে উইশ করার দিন আজ। কিন্তু আমাদের সমাজে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক খুব একটা সহজ নয়।

বাবা দিবস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাস চোখে পড়লো। যেখানে তিনি লিখেন, ‘মা ৩০ মিনিটের মধ্য ঘরে ফিরতে বললে মায়ের সঙ্গে বেশ কতক্ষণ জোরাজোরি করে ফোন রেখে, ঘণ্টাখানেক পর ঘরে ঢুকি। কিন্তু বাবা ফোন করলে কথা না বাড়িয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাই।” এইযে বাবাদের সঙ্গে মন খুলে কথা না বলা, সামনে থেকে মাথা নিচু করে হেঁটে যাওয়া। এ দৃশ্য প্রায় প্রত্যেকটি ঘরের।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবো কথাটা যত সহজে মাকে বলা যায়, বাবাকে বলা যায় না। হাতখরচের টাকাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবার পকেট থেকে আসলেও বাবার কাছে সরাসরি আবদার করা যায় না। মায়ের কাছেই যত বায়না। অনেকেই পড়াশোনা কিংবা কাজের সূত্রে পরিবার ছেড়ে শহরে একা বাস করেন। এক্ষেত্রে দূরত্ব যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মাকে নিয়ম করে দু’বার কল করা হলেও বাবার সঙ্গে কথা হয় সপ্তাহে কিংবা মাসে দুএকবার।

বিশ্ব বাবা দিবস আজ। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এ দিবসটি পালন করা হয়। সে হিসেবে এ বছর আজ ১৯ জুন বিশ্ব বাবা দিবস। বাবার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সেপ্টেম্বরের প্রথম রবিবার বাবা দিবস পালন করে থাকে।

মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। মা দিবস কয়েকশ’ বছর ধরে পালন করা হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাবা দিবসটি অনেক নতুন।

জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন।

শুধু আমাদের দেশে নয়, আমাদের উপমহাদেশে বাবার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব থাকে সন্তানদের। কিন্তু তাই বলে বাবার ভালোবাসা কম নয়। তিনি তার সারাটি জীবন ব্যয় করেন সন্তানদের পেছনে, পরিবারের পেছনে। উপমহাদেশেও বাবা দিবস পালন হয় বাবাকে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকেই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্যাটেলাইটের সুবাদে বাবা দিবস ঘটা করেই পালিত হচ্ছে। দিনটিতে বাবাদের নানাভাবে শুভেচ্ছা জানানো বা স্মরণ করা হয়। এখন সময় পাল্টেছে দিবসটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ ভালো আমেজ দেখা যায়। বাবার ছবি শেয়ার দেন অনেকে, মন্তব্য করেন, কবিতা লিখেন, বাবাকে নিয়ে লিখেন স্মৃতিকথা।

তবে আমাদের সমাজে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের বেশিরভাগ সন্তানরা কখনোই মন খুলে বাবার সঙ্গে গল্প করতে পারে না। বাবা দিবসের উইশ তো দূরের কথা। বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক সহজ হোক, মন খুলে বলতে পারুক ‘ভালোবাসি বাবা’ বাবা দিবসে এই প্রত্যাশা।

অনন্যা/জেএজে