বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

রমজানে রান্নাঘরে জ্বালানি সংকট, ইফতার-সেহরিতে বাড়ছে দুর্ভোগ

রমজানে রান্নাঘরে জ্বালানি সংকট, ইফতার-সেহরিতে বাড়ছে দুর্ভোগ

রমজানের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রান্নার জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার ইফতার ও সেহরির সময় রান্না করতে পারছেন না। আগের সরকার রমজানের আগে এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি। নতুন সরকারও দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ইফতার‑সেহরির সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে বাস্তবে এ প্রতিফলন দেখা যায়নি।

জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এলপিজির অস্থির বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহও যথেষ্ট নয়। ফলে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এলপিজি দামের চাপ
বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও গ্রাহকরা তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

দুদিন আগে এলপিজি কিনেছেন এমন ইমন রাহাত নামের একজন গ্রাহক জানান, গত মাসে ২ হাজার ৪০০ টাকায় কেনা সিলিন্ডার এখন ১ হাজার ৯০০ টাকায় পাচ্ছেন, যা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি।

রাজাবাজারের বাসিন্দা নিতু চৌধুরী বলেন, ‘রোজার আগেই গ্যাসের সমস্যা শুরু হয়েছিল। এখন চুলায় গ্যাস নেই, এলপিজির দাম আকাশছোঁয়া। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস দুই‑ই দিতে হচ্ছে।’

সরবরাহ পরিস্থিতি
তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) সাইদুল হাসান বলেন, ‘রোজার কারণে চাহিদা অনেক বেশি। সরবরাহ বাড়লেও তা পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।’

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দৈনিক ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ৯৫২ মিলিয়ন এবং দেশীয় খনি থেকে ১ হাজার ৬৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল ছাড়া আমদানি বাড়িয়েও পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীদের অভিমত
কাঁঠালবাগান এলাকার এক এলপিজি ডিলার বলেন, ‘রোজার আগে থেকেই চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। এখন বিকালে ইফতারের সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। বিকল্প হিসেবে অনেকেই এলপিজি কিনছে। এতে আরও সমস্যা বাড়ছে। ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। মাস শেষের দিকে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।’

তবে আশার কথা বলেছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৯১ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি দেশে এসেছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টন এলপিজি ঢুকবে দেশে। সব মিলিয়ে আগামী মাসের শুরুতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং দামও কমে আসবে বলে আশা করছি।’

Advertisements