বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
নারী

৩০০ বছরের মেলায় হরেক নামের দই

WhatsApp Image 2026-01-24 at 6.13.40 PM (1)

মাঘের দুপুর গড়াতেই জনসমাগম বেড়ে গেল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর সদরের ঈদগাহ মাঠে। এমনিতেই গতকাল শুক্রবার ছিল ছুটির দিন, তার ওপর সেখানে বসেছে দইমেলা। তাই ঈদগাহ মাঠে ছুটতে থাকেন লোকজন। শুধু তাড়াশের মানুষই নয়, আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও লোকজন এসে ভিড় করেন। বিকেল হতেই মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলার মাঠ। সেই সঙ্গে হরেক নামের দইয়ের ঘ্রাণে ম-ম করতে থাকে পুরো এলাকা।

প্রায় ৩০০ বছর ধরে প্রতিবছর সরস্বতী পূজা উপলক্ষে পঞ্চমী তিথিতে সেখানে দইমেলা বসছে। চলনবিল অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা নিয়ে রয়েছে নানা গল্প-কাহিনি। তাড়াশ উপজেলা সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী জানান, জমিদারি আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈষ্ণব বনোয়ারি লাল রায় বাহাদুর ৩০০ বছর আগে প্রথম রশিক রায় মন্দিরের মাঠে দইমেলার প্রচলন করেছিলেন।

এলাকায় এমনও জনশ্রুতি আছে– রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এলাকার ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন। সেই থেকেই জমিদার বাড়ির সামনে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী দইমেলার প্রচলন শুরু। প্রতি বছর মাঘ মাসে সরস্বতী পূজার দিন পঞ্চমী তিথিতে দইমেলা বসছে। এখন বসে এক দিন।
মেলাকে ঘিরে আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে যায়। ছোট ছোট ট্রাক ভরে ঈদগাহ মাঠে আসতে থাকে হরেক রকম দই। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষীরশা দই, শাহি দই, চান্দাইকোনার দই, হান্ডিয়ালের দই, ধরইলের দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, ডায়াবেটিস দই, শ্রীপুরের দই, প্রিমিয়াম দই। পাশাপাশি সেখানে মোয়া, চিড়া, ঝুড়ি, মুড়ি-মুড়কি, মোয়া, বাতাসা, কদমা, খেজুরের গুড়সহ নানা পদের খাবার নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা।

গতকাল বিকেলে মেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি বসেছে দইয়ের দোকান। বিক্রেতারা দইয়ের নাম ও দাম জানতে চাচ্ছেন। কেউ আবার দই কিনে ভিড় করছেন মুড়ি-মুড়কি ও বাতাসার দোকানে।
বিক্রেতারা জানান, মেলায় অন্তত ৪০০ মণ দই এসেছে। বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, ঘুড়কা, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ধরইল, পাবনার চাটমোহরের হান্ডিয়ালে দইয়ের চাহিদা বেশি। হরেক নামে ও দামে পার্থক্য রয়েছে। ১২০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় দই।

Advertisements

উজ্জ্বল ঘোষ ও আনন্দ ঘোষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দইয়ের পাত্রের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে দইয়ের দামও কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা বিক্রেতা নির্মল ঘোষ বলেন, আমি এক কেজি ও দুই কেজি ওজনের ১৫০টি দইয়ের পাত্র এনেছিলাম। বিকেল ৩টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেছে। তাড়াশ থেকে আসা মুড়ি-মুড়কি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্তত দেড় মণ মুড়কি, ১২০ কেজির মতো আমন ও বোরো ধানের চিড়া বিক্রি করেছি।
ক্রেতা আশিকুল ইসলাম বলেন, সচরাচর আমরা তো দই খাই-ই। কিন্তু মেলার দিন দই কেনার একটা রেওয়াজ এই এলাকায় আছে। তাই আমিও দই কিনতে এসেছি।
সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী বলেন, ‘দই মেলা সিরাজগঞ্জ জেলার আদি ঐতিহ্যের অংশ। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হলেও এখানে সব শ্রেণি-ধর্ম-পেশার মানুষ আসেন।’

Advertisements