শীতের দিনে আরামদায়ক উষ্ণতার সহজ উপায়

শীত বাড়লেই অনেকের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। ঘর ঠান্ডা আর হিটার চালালে বিদ্যুৎ বিল বেশি। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালেই হিটার ছাড়াও ঘর ও শরীর রাখা যায় আরামদায়কভাবে উষ্ণ।
সকালে পর্দা সরিয়ে ঘরে সূর্যের আলো ঢুকতে দিন। প্রাকৃতিক এই তাপ ঘরের তাপমাত্রা বাড়ায়, জীবাণু কমায় এবং মন ভালো রাখে। বিকেলে সূর্য ডোবার পর পর্দা টেনে দিলে দিনের উষ্ণতা ঘরের ভেতরেই আটকে থাকে। রাতে থার্মাল বা মোটা পর্দা ব্যবহার করলে ঠান্ডা বাতাস ঢোকার সুযোগ কমে যায়।

ঘর ঠান্ডা হওয়ার আরেক বড় কারণ হলো দরজা–জানালার ফাঁকফোকর। ছোট ফাঁক দিয়েই ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে পড়ে। তাই জানালার কিনারা ককিং বা ওয়েদার স্ট্রিপ দিয়ে সিল করা। দরজার নিচে ড্রাফট স্টপার ব্যবহার করা বেশ কার্যকর। এমনকি ইলেকট্রিক সকেটের ফাঁক দিয়েও ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে পারে—সেটিও ইনসুলেটর দিয়ে বন্ধ করা যায়।
রান্নাঘর থেকেও পাওয়া যেতে পারে বাড়তি উষ্ণতা। রান্না বা বেকিংয়ের সময় তৈরি হওয়া তাপ আশপাশের ঘরকে গরম করে। রান্না শেষে ওভেন বন্ধ করে দরজা সামান্য খুলে দিলে সেই গরম বাতাস ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘুমের সময় উষ্ণতা খুব জরুরি। বিছানায় যাওয়ার আগে গরম পানির হট ওয়াটার বটল ব্যবহার করলে ঠান্ডা ভাব দ্রুত কেটে যায়। কয়েক সেকেন্ড হেয়ার ড্রায়ার চালিয়েও বিছানা গরম করা যায়। জানালার একেবারে পাশে বিছানা থাকলে ঠান্ডা বেশি লাগে, তাই বিছানা একটু দূরে সরিয়ে রাখাই ভালো।
শীতে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হয়। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে এবং ঘর তুলনামূলক উষ্ণ মনে হয়। মেঝেতে মোটা রাগ বিছালে পায়ের ঠান্ডা কমে এবং ঘরের তাপও ধরে রাখা যায়।
হিটিং কম থাকলে নিজের শরীর গরম রাখাও জরুরি। স্তরে স্তরে পোশাক পরুন। ভেতরে থার্মাল, তার ওপর সোয়েটার বা হুডি, বাইরে উল বা ফ্লিস জ্যাকেট। পায়ে মোজা, মাথায় টুপি আর হাতে গ্লাভস শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে বলা যায় হিটার ছাড়াও শীতের দিনে উষ্ণ থাকা একেবারেই সম্ভব। সূর্যের আলো কাজে লাগানো, ফাঁকফোকর বন্ধ করা, ঘর ও শরীরের যত্ন নেওয়া। এই ছোট ছোট অভ্যাসেই শীত কাটবে আরাম আর স্বস্তিতে।



