বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

দেশের ৭১ শতাংশ স্কুলে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট: বিবিএস জরিপ

Untitled-4

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) ব্যবস্থার অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত টয়লেটের অভাব, নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থী ও রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা ‘ওয়াশ ইন এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিজ সার্ভে ২০২৪’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ স্কুলে প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি উন্নত মানের টয়লেট নেই। মাত্র ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ স্কুল আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম মান অনুযায়ী উন্নত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছে।

এছাড়া ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ স্কুল এবং ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মানববর্জ্য নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না। অন্যদিকে নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ স্কুল ও ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফারুক আদরিয়ান ডুমন।

জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন বিবিএসের এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইং-এর পরিচালক মো. এমদাদুল হক।

Advertisements

বিবিএস জানায়, দেশের আটটি বিভাগ ও ৬৪টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালের ২৬ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপে দেখা যায়, উন্নত পানির উৎসের সুবিধা রয়েছে ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ স্কুল ও ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। তবে মৌলিক পানি সেবার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণের ভেতরে পানির উৎস থাকা জরুরি—এই শর্ত পূরণ করে মাত্র ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ স্কুল ও ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবন্ধীবান্ধব পানির সুবিধা রয়েছে মাত্র ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ স্কুলে এবং ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে।

ওয়াশ খাতে বরাদ্দ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও খুব কম। মাত্র ১১ দশমিক ১ শতাংশ স্কুল এবং ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ খাতে নির্দিষ্ট বাজেট রয়েছে।

যদিও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি টয়লেট আছে, তবে এর মান ও ব্যবহারযোগ্যতা সন্তোষজনক নয়। পাশাপাশি হাত ধোয়ার সুবিধা থাকলেও পানি ও সাবানের অভাবে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে মাত্র ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ স্কুল এবং মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।

নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। কিশোরীদের জন্য পৃথক, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট রয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৭ শতাংশ স্কুলে। মাসিককালীন মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে এমন স্কুলের হার আরও কম—মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে পানি, স্যানিটেশন ও হাত ধোয়ার সুবিধা রয়েছে মাত্র ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে শহরে এই হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

পানির সুবিধার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে হার ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ, যেখানে এই হার ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জরিপের এই তথ্য নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা টেকসই করতে স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ওয়াশ সুবিধা দ্রুত উন্নত করা জরুরি।

Advertisements