বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
নারী

নারী ক্রীড়াবিদদের কাছ থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাচ্ছে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

Untitled-4

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের একটি উদ্বেগজনক চিত্রের মুখোমুখি হয়েছেন ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ। নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে বিসিবির গঠিত কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন নারী ক্রীড়াবিদের কাছ থেকে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ পাচ্ছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বেশির ভাগ নারী ক্রীড়াবিদ নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে ফোনে তাদের অভিযোগ জানাচ্ছেন। অভিযোগগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও কোচদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নারী ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের নীরব সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশানে নিজের চেম্বারে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ বলেন, ‘জাহানারা আলমের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন সময় মেয়েরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা নিজেদের খেলোয়াড় বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং মৌখিকভাবে নানা অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি।’

তিনি জানান, অন্তত চার-পাঁচটি ভিন্ন খেলার ডজনখানেক খেলোয়াড় তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে কোন খেলাগুলোর কথা এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।

Advertisements

অভিযোগকারীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে সারওয়াত সিরাজ বলেন, ‘কয়েকজন আমাকে বলেছেন, তারা ফেডারেশনে অভিযোগ করতে চান না। তারা চান মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে একটি অভিযোগ বাক্স খোলা হোক। আমি তাদের বলেছি, অভিযোগগুলো লিখিতভাবে ও সম্ভব হলে প্রমাণসহ দিতে।’

উল্লেখ্য, নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে বিসিবি পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আরও কিছু সময় লাগবে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট যে নীতিমালা জারি করেছিল, তা এত দিন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে কার্যকর হয়নি। তবে গত ১০ নভেম্বর এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সব ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। এরপর অনেক ফেডারেশনই কমিটি গঠন করেছে।

যৌন হয়রানিবিরোধী আইনের ড্রাফটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা সেগুলো সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের অভিযোগ কমিটির কাছে পাঠাবে। তিনি বলেন, ‘যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া।’

জাহানারা আলমের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সারওয়াত সিরাজ। তবে তিনি বলেন, ‘যৌন হয়রানির বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। একই সঙ্গে আমরা মিডিয়া ট্রায়ালে বিশ্বাস করি না।’

নারী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় অনেক পরিবার খেলাধুলায় মেয়েদের যুক্ত করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা যেমন বোঝাতে হবে, তেমনি এটাও বোঝাতে হবে যে খেলাধুলা ক্যারিয়ার গড়ার একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।’

মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নিজস্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারী কোচ নিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি আগামী মাস থেকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি বিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া খেলাধুলায় লিঙ্গসমতা ও নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্রাইটন প্লাস হেলসিংকি ডিক্লারেশন–এ স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ বলেন, ‘এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হলেও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।’

১৯৯৪ সালে গৃহীত ব্রাইটন ডিক্লারেশন ক্রীড়াঙ্গনে লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত।

Advertisements