বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
নারী

শীতের পিঠায় জীবনের ভার টানছেন মা–মেয়ে

Untitled-3

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দনগর মহল্লার এক মোড়ে শীত এলেই ভিড় জমে একটি ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানে। এখানেই শীতের পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৬০ বছরের সাজেদা বেগম ও তার ৪০ বছর বয়সী মেয়ে সোনাভান। দুজনই স্বামী পরিত্যক্তা। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় নিরুপায় হয়ে তারা বেছে নিয়েছেন পিঠা বিক্রির পেশা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেদা বেগমের সংসার একসময় সুখের ছিল। তবে শ্বশুরবাড়িতে ছেলেসন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। মেয়ে সোনাভানের বয়স এক বছর হওয়ার আগেই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার। এরপর শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েন তিনি। মানুষের বাড়ি ও খেতখামারে কাজ করে কোনোমতে মেয়েকে বড় করে তোলেন।

মেয়ের ভাগ্যও ভালো ছিল না। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় সোনাভানের সংসারও ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মা–মেয়ে দুজনই শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। বছরের প্রায় চার মাস পিঠা বিক্রির আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সংসার।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহল্লার মোড়ে চুলা জ্বালিয়ে পিঠা তৈরি করছেন সাজেদা বেগম। হাঁড়িতে ফুটছে পানি, সেই পানির ভাপে সেদ্ধ হচ্ছে ভাপা পিঠা। পাঁচ টাকায় একটি ভাপা পিঠা কিনতে চুলার সামনে ভিড় করছে শিশুরা। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে গরম পিঠার স্বাদ নিচ্ছে। আবার কেউ পরিবারের জন্য প্যাকেট করেও নিয়ে যাচ্ছে।

Advertisements

সাজেদা বেগম জানান, প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কেজি চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড়, জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে দৈনিক খরচ পড়ে প্রায় ৮০০ টাকা। গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। খরচ বাদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ থাকে। এ কাজে সব সময় তার মেয়ে সোনাভান সহযোগিতা করেন।

পিঠা কিনতে আসা যুবক মুন্না বলেন, “বাড়িতে সব সময় পিঠা বানানো সম্ভব হয় না। তাই মাঝে মাঝে এখান থেকে পিঠা কিনি। নিজের জন্যও নেই, আবার পরিবারের জন্যও নিয়ে যাই। এখানে পাঁচ টাকায় পিঠা পাওয়া যায়।”

স্থানীয়রা জানান, সাজেদা বেগমের মতো শীতের মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও সড়কের মোড়ে অনেকেই অস্থায়ী পিঠার দোকান বসিয়ে বাড়তি আয় করছেন। এসব দোকানে সাধারণত সকাল ৬টা থেকে ৯টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি হয়। রস পিঠা, ঝাল পিঠা ও তেলে ভাজা পিঠার পাশাপাশি চিতই ও ভাপা পিঠার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

Advertisements