‘পরিবার, সমাজ ও প্রশাসন সব জায়গায়ই নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’

নারীরা পরিবার, সমাজ কিংবা প্রশাসন—কোনো ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, নারীদের চলাফেরা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি।
বুধবার গুলশানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জিং সোশ্যাল নমর্স অ্যান্ড পাওয়ার ডায়নামিকস: টুওয়ার্ডস এ ফেয়ার-ফ্রি ফিউচার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
ঢাকার বাইরে নারীদের পরিস্থিতি আরও নাজুক জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, রাজধানী তুলনামূলক নিরাপদ হলেও মফস্সলের নারীরা গভীর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় প্রশাসন—কোনো জায়গাতেই তারা সুরক্ষিত বোধ করছেন না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকার বিষয়টিও তিনি সামাজিক সংকোচের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক্–নির্বাচনী মাঠ–আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ ছিল সুশাসন ও দুর্নীতি। এখন সেই জায়গা দখল করেছে নিরাপত্তা—অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তিনি জানান, অনেক নারী এখন নিজেদের কথা বলার জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন। হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যসহ বিভিন্ন ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষ আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যও উদ্বেগজনক—‘মিটিং করলে আরও সমস্যা হতে পারে।’
অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন দেবপ্রিয়। বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে, যার বড় অংশ নারী। বিনিয়োগ সংকট ও বেকারত্ব নারীদের আর্থিক নির্যাতনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ও আচরণগত নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগীতচর্চা সীমিত হওয়ার মতো ঘটনা শুধু সাংস্কৃতিক সংকোচই নয়, পরিবারেও আচরণগত পরিবর্তন তৈরি করছে। সমাজের সঙ্গে নারীদের স্বাভাবিক যোগাযোগ, বিকাশ ও মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মুখে আছেন।



