২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

বাবার কোলে চড়ে অনার্স পাস করা হাসির স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া

Untitled-10

ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের সাফল্যময় গল্প হয়ে উঠেছেন বগুড়ার নাইছ খাতুন হাসি। জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও কখনোই থেমে থাকেননি তিনি। গত ১৮ বছর ধরে বাবার কোলে চড়ে বিদ্যালয় এবং কলেজে পড়াশোনা করেছেন। গত ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত অনার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে হাসি সিজিপিএ ৩.২০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসির দুটো পা থাকলেও সেগুলোতে কোনো শক্তি নেই। ডান হাতেও নেই শক্তি, ফলে তার একমাত্র শক্তি হলো বাঁ হাত। তার জীবনের একমাত্র সম্বল, বাবার কোলে চড়ে স্কুল এবং কলেজে যাতায়াত। বগুড়ার ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে পরীক্ষা দিয়েছেন।

হাসি বলেন, “শরীরে শক্তি নেই, তবে মনোবল এবং এক হাতের শক্তি নিয়েই জীবন শুরু করেছি। আমি কখনোই কারো বোঝা হতে চাই না। বাবা যখন আমাকে কোলে তুলে রাস্তায় নিয়ে যেতেন, তখন মানুষ কেমন আড় চোখে তাকিয়ে থাকত। আমি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। আমি শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”

তার বাবা, নজরুল ইসলাম জানান, “মেয়েটি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তাকে কোলে তুলে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব। দুটো পা এবং একটি হাত নিশ্চল, তাই সে নিজে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। কিন্তু সে বসে থেকে কলম ধরে লিখতে পারে।”

হাসি এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট। তার বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামে। বাবা নজরুল ইসলাম এবং মা আকতার জাহান দরিদ্র এই দম্পতির ঘরেই ২০০১ সালে হাসির জন্ম।

Advertisements

হাসি ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৫৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৯ সালে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা বহুমুখী মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ পয়েন্ট পেয়ে পাস করেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি ২০১৯ সালে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন।

১৮ বছর ধরে বাবা কোলে তুলে হাসিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেলেও, তার সংগ্রাম এবং সফলতা তার অধ্যবসায় এবং ইচ্ছাশক্তির পরিচয়। হাসি এখন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কোনো প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারে না।

Advertisements