২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
স্পটলাইট

সহিংসতার ছায়ায় নারীর জীবন: কতটা বদলেছে বাংলাদেশ?

1-SM1089496

বাংলাদেশের প্রতিটি চারজন নারীর মধ্যে অন্তত তিনজন কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এই সহিংসতা শুধু শারীরিক নয়—তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক বঞ্চনা, এমনকি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণও।

সোমবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র।

সহিংসতা, সম্পর্কের ভেতরেই

জরিপ অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময় নিজের জীবনসঙ্গী বা স্বামীর দ্বারা শারীরিক, যৌন, মানসিক কিংবা অর্থনৈতিক সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। শুধু গত এক বছরেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৯ শতাংশ নারী।

তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো—এই সহিংসতার শিকার নারীদের ৬২ শতাংশ কখনও এসব ঘটনা কারও সঙ্গে ভাগ করে নেননি। নীরবতা যেন এখানে এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে।

স্বামীর বাইরেও আছে সহিংসতা

জরিপে উঠে এসেছে আরেকটি ভয়াবহ তথ্য—১৫ বছর বয়স পার করার পর ১৫ শতাংশ নারী স্বামী ছাড়া অন্য কারো দ্বারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এমনকি ২.২ শতাংশ নারী অ-জীবনসঙ্গী (non-partner) পুরুষের দ্বারা যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন।

সম্মান না সহায়তা?

জরিপ বলছে, নির্যাতনের শিকার হয়েও অধিকাংশ নারী আইনি বা চিকিৎসা সহায়তা নেন না। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক চাপ, লজ্জা, সম্মানহানির ভয় এবং পারিবারিক অস্থিরতার আশঙ্কা।

Advertisements

আলো ফোটার আভাস?

তবে ২০১৫ সালের তুলনায় সামান্য হলেও অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সে সময় স্বামীর দ্বারা সহিংসতার হার ছিল ৬৬ শতাংশ; ২০২৪ সালে তা কমে এসেছে ৪৯ শতাংশে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই হ্রাস কি প্রকৃত পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি, নাকি শুধুই পরিসংখ্যানের খেল?

জরিপে দেখা যায়, নারীর জীবনের একটা বড় অংশ কাটে ভয়ের, শঙ্কার ও সহিংসতার ছায়ায়। সহিংসতা রোধে আইন থাকলেও, কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা এখনও অনেক পিছিয়ে।

সহিংসতার বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙা জরুরি—ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র, সকলের সমন্বিত উদ্যোগেই এই বাস্তবতা বদলানো সম্ভব।

Advertisements