সিঁদুর নিয়ে যত কথা

সিঁদুর শব্দটা শুনলেই বিবাহিত নারীদের কথায় চোখে ভেসে ওঠে। সিঁদুর প্রদানের মাধ্যমে একজন নারী বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করে। শাঁখা, সিঁদুর হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীদের বিবাহিত জীবনের একটি প্রতীক। এই শাঁখা সিঁদুরের নানা ইতিহাস রয়েছে, রয়েছে নানান ধরনের ধারণা, রয়েছে হাজারও মত। তবে এখনকার সিঁদুরের ভালো দিক সিঁদুর পর আর ভালো দিক সিঁদুর পড়ার খারাপ দিক চুলে কিংবা ত্বকে সিঁদুর কোন ক্ষতি করছে কিনা সেই সমস্ত সম্পর্কে বিস্তারিত-
শুধুই কি বৈবাহিক সম্পর্ক কে কেন্দ্র করেই সিঁদুর করা হয় নাকি এর কোন কারণ রয়েছে নাকি কোন ব্যাখ্যা রয়েছে?
- সাধারণ মানুষদের কাছে একটাই উত্তর সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, স্বামীর মঙ্গলস্বার্থে বিবাহিত নারীরা সিঁথিতে সিঁদুর দেন। তবে এই কথাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক নয়। সিঁদুর দেওয়ার নানান ধরনের বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
কপালে সিঁদুর প্রয়োগেরও কিছু বিধি ও ফলনির্দেশ শাস্ত্র প্রদান করে। জানা যায়, তর্জনী দিয়ে সিঁদুর পরলে শান্তি পাওয়া যায়,মধ্যমা দিয়ে ধারণ করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল কালি মিশিয়ে রাঙিয়ে তোলা হত। কুঙ্কুমচর্চার কেন্দ্রবিন্দুটি হল আজ্ঞাচক্র। এখানে সিঁদুর প্রয়োগে আত্মশক্তি বাড়ে। নারীকে ‘শক্তি’ হিসেবেই জ্ঞান করে হিন্দু পরম্পরা। কুঙ্কুম বা সিঁদুর তাদের আজ্ঞাচক্রে প্রদানের বিষয়টি সেই কথাটিকেই মনে করিয়ে দেয়। (সংগৃহীত)
তবে যুগে যুগে অনেক কিছু পরিবর্তনের পাশাপাশি সিঁদুর তৈরি করার পদার্থও পরিবর্তন এসেছে যেমন বর্তমান সময়ে হলুদ, চুন, চন্দন এবং খুব অল্প পরিমাণে পারদ ব্যবহার করে সিঁদুর তৈরি করা হয়। মূলত, লাল রংকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে পারদ। তাই সিঁথিতে একদিন সিঁদুর পড়লে সেখানে জল লাগলেও দুই থেকে তিন দিন সিঁদুরটা সিঁথিতে স্থায়ী থাকে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই সিঁদুর তৈরির মূল উপকরণ হলুদ।
তবে সিঁদুর কেনার ক্ষেত্রে এর গুণগত মান একটু যাচাই করা উচিত অনেক সময় দেখা যায় অনেক সিঁদুর দিলে সিঁথিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যালার্জি হতে পারে এবং অনেকের প্রচুর চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায় এরকম অনেক হয়েছে যে সিঁদুর পড়তে পড়তে চুলের মধ্যখানটি টাক হয়ে গিয়েছে এবং সেখানে আর কোনদিনই চুল গজায়নি কারণ এটি রাসায়নিক পদার্থের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেই হয়েছে এমন কিছু অবস্থাতে যদি কেউ পড়ে থাকেন তার অবশ্যই সরাসরি সিঁদুর পরিবর্তন করা উচিত এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
স্বাভাবিক ভাবেই যেকোনো ধ্যান ধারণার দুটো দিক থাকে। কোন ব্যক্তি আপনি বিশ্বাস করবেন এবং কোন দিকটি করবেন না সেটা নির্ভর করছে আপনার নিজের উপর। বিজ্ঞান মতে, নারীরা মাথার যে স্থানে সিঁদুর পরেন সেখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ। ফলে সিঁদুর মেডিটেশনের জন্য সাহায্য করে থাকে।
সিঁদুর পরার সময় মাথায় এক ধরণের চাপ প্রয়োগ হয়, এটা একপ্রকারের ম্যাসাজ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে ও ঘুম ভালো হয়। সিঁদুরের মধ্যে থাকা উপাদান মাথা ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে, স্থির থাকতে সাহায্য করে। যথা, সিঁদুর শরীর ও মন দুটোর জন্যই জরুরি।
তাই সিঁদুর করার বৈজ্ঞানিক দার্শনিক এবং যৌক্তিক নানা ব্যাখ্যা রয়েছে।
এবার যদি অপকারিতার প্রসঙ্গে আসি তবে সিঁদুর পড়ার কারণে অনেক সময় নারীরা এলার্জির সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগে, মাথার ত্বকে চুলকানি অনুভব হওয়া, ছোট ছোট গোটা ওঠা, নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে কিংবা তাদের শরণাপন্ন হলে অবশ্যই এর কোনো না কোনো উপায় তারা পেয়ে যাবে।
সিঁদুরের নানা উপকারিতা ও অপকারিতার পাশাপাশি সিঁদুর পড়লে একজন নারী সৌন্দর্য বেড়ে যায় দ্বিগুণ। প্রতিটা নারীকেই সিঁদুর পড়লে অন্যরকম সুন্দর লাগে।



