বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

না ফেরার দেশে লোকসংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীন

parvin-20250910232750

বাংলাদেশের লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

চার সন্তান ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। তার ছেলে ইমাম জাফর নোমানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন— “আম্মা আজ (শনিবার) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। মহান আল্লাহ আম্মার সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।”

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। নিয়মিত ডায়ালিসিস নিতে হতো তাকে। গত ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালিসিসের জন্য মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়। গত বুধবার তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেন ফরিদা পারভীন। গানের জগতে তার পথচলা দীর্ঘ ৫৫ বছরের। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গেয়ে সংগীতাঙ্গনে সেই পথচলার শুরু। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পান। পরে সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে লালনগীতির তালিম নেন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি।

শুরুতে নজরুলসংগীত, পরে আধুনিক গান দিয়ে ফরিদা পারভীনের যাত্রা শুরু হলেও জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। লালন সংগীতের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তার অবদান সর্বজনস্বীকৃত। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন।

২০০৮ সালে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে সিনেমার গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে অর্জন করেন একুশে পদক। নতুন প্রজন্মকে লালনের গান শেখাতে গড়ে তোলেন ‘অচিন পাখি স্কুল’।

ফরিদা পারভীন ছিলেন বাংলাদেশের লোকসংগীতের জীবন্ত ইতিহাস। তার গানে লালনসহ বাংলার মাটির ঘ্রাণ ধরা দিত অনন্য শক্তিতে। তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisements