বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ ‘সিডও’

sidow

নারীর অধিকার রক্ষায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি দলিলগুলোর একটি “সিডও”। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হতে শুরু করে। সিডও একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদ, যা শুধু নারী সংক্রান্ত। এটি শুধু একটি নীতিমালা নয়, বরং বৈষম্য, সহিংসতা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীর বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধের প্রতীক।

সিডও কেবল একটি দলিল নয়, এটি নারীর মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ের একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকার। এই সনদ বাস্তবায়নে বড় অবদান রেখেছেন একদল সাহসী নারী। সেই নারীরা কেবল নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে নন; বরং স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ পর্যন্ত নারীর অধিকার এবং সিডও বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁরা ছিলেন নীতিনির্ধারক, আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও গবেষক। যাঁরা বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সিডওর ভাষাকে বাস্তবতায় রূপান্তরে লড়েছেন।

মালয়েশিয়ার মেরি শান্থি দাইরিয়াম ২০০৫ সালে সিডও কমিটির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৭ সালে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স রাইটস অ্যাকশন ওয়াচ এশিয়া-প্যাসিফিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিডও পর্যবেক্ষণে এশিয়ার এনজিওগুলোর সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেন।

২০০৮ সালে জাপানের ইয়োকো হায়াশি সিডও কমিটিতে যোগ দেন। এবং ২০১৫ সালে তার চেয়ারপারসন হন। তাঁর নেতৃত্বে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে আইনি সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আফ্রিকার হিলারি গ্বেদেমা ২০১৯ থেকে ২০২১ মেয়াদে সিডও কমিটির সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। তাঁর নেতৃত্বে জেনারেল ‘রিকমেন্ডেশন নম্বর ৩৩’ প্রকাশিত হয়। এটি নারীর বিচারব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের প্রশ্নে ঐতিহাসিক দলিল।

নারীরা প্রমাণ করেছেন, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইনেই নয়; বরং সচেতনতা, সামাজিক চাপ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্ভব।