ক্ষুধায় নীরব গাজার শিশু, কাঁদার শক্তিও নেই

গাজায় ইসরায়েলের টানা ২২ মাসের আগ্রাসনে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনি শিশুরা। অনাহার, অপুষ্টি ও রোগে জর্জরিত হয়ে তারা এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে কাঁদারও শক্তি নেই—এমন হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেন-এর প্রেসিডেন্ট ইনগার অ্যাশিং।
গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ইনগার বলেন, “গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে। এটা কোনো কারিগরি শব্দ নয়, বরং বাস্তবতা।” বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি বিষয়টি প্রকাশ করে।
তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকলে শিশুদের শরীর প্রথমে চর্বি থেকে শক্তি আহরণ করে। পরে তা শেষ হয়ে গেলে দেহ নিজের পেশী ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। “এভাবেই শরীর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। আমাদের ক্লিনিকগুলোতে এখন শিশুরা এতোটাই দুর্বল যে তারা ব্যথায় কাঁদতেও পারছে না, প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে থাকে,” বলেন ইনগার।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় খাবার ও নিত্যপণ্য প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ত্রাণ সংস্থাগুলো এরই মধ্যে বারবার দুর্ভিক্ষের সতর্কতা দিয়ে আসছিল।
জাতিসংঘের সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেস ক্লাসিফিকেশন ইনিশিয়েটিভ (আইপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে শুধু গাজা গভর্নরেটেই পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে ভুগছেন। ওই অঞ্চলের মধ্যে গাজা সিটিও রয়েছে, যা মোট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা জুড়ে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়বে।
গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, ২২ মাসের যুদ্ধে ইসরায়েলের নিয়মতান্ত্রিকভাবে ত্রাণ অবরুদ্ধ করার ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে আইপিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েল। দেশটি প্রতিবেদনকে “বানোয়াট” আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি ১৩টি দেশ এক যৌথ ঘোষণায় জানায়, তারা আইপিসির পদ্ধতিকে বিশ্বাস করে এবং গাজার দুর্ভিক্ষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ঘোষণায় আরও বলা হয়, “ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে নিষিদ্ধ। গাজার দুর্ভিক্ষ অবিলম্বে দূর করতেই হবে।”
ছবিঃ রয়টার্স



