বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

কর্মসংস্থানের পথে বাঁধা: লন্ডনে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীরা

london

গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশি অ্যান্ড পাকিস্তানি উইমেন ইন গুড ওয়ার্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীরা এখনও উচ্চশিক্ষিত হয়েও ভালো বেতনের চাকরি পেতে মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বৈষম্য, কাঠামোগত অসাম্য এবং কর্মক্ষেত্রে অনমনীয়তার কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে লন্ডনে প্রায় অর্ধেক পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নারীরা ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়। নারীরা যেখানে ৪৮.১ শতাংশ সেখানে পুরুষদের এ হার ছিল মাত্র ১৫.৩ শতাংশ। নারীদের বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য এর জন্য নারীদের বেকারত্বের হার বাড়ছে। লন্ডনে পাকিস্তানি নারীরা গড়ে পুরুষদের চেয়ে কম আয় করেন।

লন্ডনের ডেপুটি মেয়র ফর কমিউনিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ড. ডেবি উইকস-বার্নার্ড বলেন, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নারীরা এখনো পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমনকি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে অনেকে নিজেদের নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অভিজ্ঞতা যেমন দৃঢ়তার প্রতিফলন ঘটায়, তেমনি দেখায় যে এসব বাধা দ্রুত ভাঙা জরুরি।’

প্রতিবেদনটিতে ৩২ জন নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে হতাশা থাকলেও, অনেকেই দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ ফারজানা জানান, তার সহকর্মীর অভিজ্ঞতা ছিল ১০ বছরের বেশি। কিন্তু তাঁকে পদোন্নতি না দিয়ে তা এক শ্বেতাঙ্গ নারীকে দেয়া হয় অথচ তিনি দলের কাজ সামলাতেই পারছিলেন না। পাকিস্তানি শিক্ষিকা আমেনা জানান, সাক্ষাৎকারে তাকে বলা হয় তার উচ্চারণে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হবে এবং আমাদের অ্যাকসেন্টের সঙ্গে তা মেলে না।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সলিসিটর খাদিজা (বয়স ৩০ থেকে ৩৫) বলেন, ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস কোর্স (এলপিসি) করতে এখন ১৪ হাজার পাউন্ড লাগে। আমি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করছিলাম। কিন্তু বাবা ট্যাক্সি ড্রাইভার বলে আমাকে অবজ্ঞার চোখে দেখল। অথচ অন্যদের জন্য বিষয়টি সহজ ছিল।’

মুসলিম পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে। বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী মাহমুদা বলেন, ‘হিজাব পরার কারনেও অনেকেই সন্দেহ করে আমরা কাজ করতে পারবো কি না তারা ভাবেন।’ এছাড়া কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী চাইল্ডকেয়ারের অভাব তীব্র সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। যদি সন্তানদের ডে কেয়ারে রাখে এবং দীর্ঘ সময় কাজ করি তবে তাদের অধিকাংশ বেতনই সেখানে চলে যাবে। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নারীরা থেমে থাকে নি।

লন্ডনের বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করতে সাশ্রয়ী চাইল্ডকেয়ার এবং বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীদের জন্য বিশেষ পদোন্নতি কর্মসূচিসহ বেশ কিছু সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনটিতে যেন কোনো সম্প্রদায় পিছিয়ে না থাকে।

ছবি: ডেইলি সাবাহ