স্নিকার্স প্রেমীদের যে ৫ ধরনের জুতো এড়িয়ে চলা উচিৎ

আজকাল স্টাইল আর কমফোর্টের দারুণ মিশেল হলো স্নিকার্স। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সবার পায়ের প্রথম পছন্দ এখন এই জুতো। অফিসে যাওয়ার সময়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, কিংবা পাহাড়ে ট্রেকিং সব ক্ষেত্রেই স্নিকার্সই যেন সেরা সঙ্গী। তবে ফ্যাশনের দুনিয়ায় ‘যা খুশি তাই’ নয়। ভুল স্নিকার্স বেছে নিলে গোটা লুকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আপনি যদি ফ্যাশনের প্রতি সচেতন হন এবং স্নিকার্স ভালোবাসেন, তাহলে এই পাঁচ ধরনের স্নিকার্স কখনোই পরবেন না। কারণ এগুলো আপনার সাজের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এমনকি আপনার শরীরের উপরেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত বড় স্নিকার্স
এক সময় বড় আকৃতির, ভারী স্নিকার্সকে দারুণ ট্রেন্ডি মনে করা হতো। মঞ্চে র্যাম্পে, মিউজিক ভিডিওতে বড় বড় সোল বা বিশাল জুতো ছিল ফ্যাশনের অংশ। কিন্তু আজকের দিনে সাদামাটা ও মিনিমাল ডিজাইনের কদর বেশি। কারণ ওভারসাইজড স্নিকার্স বেশ বেমানান। এ ধরনের জুতো পায়ে দিলে গোটা শরীরের সঙ্গে পায়ের অনুপাত ঠিক থাকে না। অনেক সময় পা দুটি শরীরের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। ফলে আপনার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট অন্যদের কাছে বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে।

পায়ের মাপের সঙ্গে না মেলা জুতো
স্নিকার্স যতই ব্র্যান্ডেড বা দামী হোক, পায়ের সঙ্গে ঠিকমতো না মিললে তা আপনার হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্য দুটোতেই প্রভাব ফেলবে। যদি স্নিকার্স বড় হয়, তাহলে হাঁটার ভঙ্গি নষ্ট হয়, পায়ের পেছনের অংশ ঘষা খেয়ে ফোসকা পড়ে যেতে পারে। আবার ছোট হলে পা চেপে বসে ব্যথা করে, এমনকি হাঁটুর জোড়াতেও চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন হলে হাঁটুর স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। তাই স্নিকার্স কেনার সময় অবশ্যই পায়ের সঠিক মাপ অনুযায়ী জুতো নির্বাচন করুন।
বেশি লোগো দেওয়া স্নিকার্স
ব্র্যান্ডেড জুতো মানেই যে সেগুলোতে বিশাল লোগো থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং রুচিশীল ডিজাইন বলতে বোঝায় কম লোগো, পরিষ্কার লাইন ও স্মার্ট লুক। অনেক সময় দেখা যায়, জুতোর একাধিক জায়গায় ব্র্যান্ডের নাম বা চিহ্ন বড় করে লেখা থাকে। এগুলো দেখতে অগোছালো এবং অরুচিকর লাগে। বরং এমন স্নিকার্স পরুন, যেখানে ছোট করে ব্র্যান্ডের লোগো আছে, কিন্তু তা গোটা জুতোর সৌন্দর্য নষ্ট করছে না। এতে আপনার স্টাইলও বজায় থাকবে। আর দেখতেও মার্জিত লাগবে।
অপরিষ্কার বা পুরনো স্নিকার্স
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। যত ভালো জুতোই হোক না কেন, যদি তা নোংরা থাকে, তাহলে সেটি আপনার সম্পূর্ণ সাজকেই নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে সাদা রঙের স্নিকার্স দ্রুত নোংরা হয়ে যায় এবং পরিষ্কার না রাখলে খুব বাজে দেখায়। এমনকি কালো বা গাঢ় রঙের জুতোর উপরেও ধুলোময়লা জমে থাকলে তা নজরে পড়ে যায়। তাই স্নিকার্স নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিৎ। যদি পরিষ্কার করেও পুরনো ভাব বা ছেঁড়াফাটা না যায় তাহলে বুঝতে হবে সময় হয়েছে সেই জুতোটিকে বিদায় জানানোর।

অতিরিক্ত ঝলমলে বা চোখ ধাঁধানো রঙের স্নিকার্স
নিয়ন রঙ, চকচকে ডিজাইন বা খুব উজ্জ্বল রঙের স্নিকার্স কিছু কিছু পার্টি বা ফ্যাশন ইভেন্টে মানিয়ে গেলেও, রোজকার জীবন বা অফিসপোশাকের সঙ্গে একেবারেই মানায় না। আপনি যদি স্টাইলিশ হতে চান তবে চটকদার রঙ নয় বরং পরুন এমন কিছু রঙ যা যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যেমন সাদা, কালো, নেভি ব্লু, ধূসর বা গাঢ় লাল রঙের স্নিকার্স সবসময়ই স্মার্ট লাগে। মনে রাখতে হবে সব জায়গায় এবং সবার ক্ষেত্রে তা মানায় না।
স্নিকার্স কেবল জুতো নয় এটি আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ। তাই কোন স্নিকার্স পরবেন, সেটির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কোনটি পরবেন না, সেটিও জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক জুতো আপনার সাজকে আরও স্মার্ট করে তুলবে, আর ভুল জুতো তা একদম নিচে নামিয়ে দেবে। তাই স্নিকার্স পরুন অবশ্যই। তবে বুঝে শুনে, নিজের স্টাইল, প্রয়োজন এবং পরিবেশ অনুযায়ী।



