বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

বিলুপ্তির পথে পরিবেশের বন্ধু

000

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরতা। এই নির্ভরতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে বাস্তুতন্ত্র, যার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মৌমাছি। ছোট হলেও মৌমাছির পরিবেশে ভূমিকা অপরিসীম। পরাগায়নের মাধ্যমে তারা ফল, বনজ ও কৃষিজ ফসলের উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম। তাই মৌমাছিকে ‘পরিবেশের বন্ধু’ বলা হয়।

তবে এই উপকারী পতঙ্গটি আজ বিলুপ্তির পথে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ, বৃক্ষনিধন, চাক বাঁধার অনুপযুক্ত পরিবেশ এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ইটভাটার জ্বালানির জন্য গাছ কেটে ফেলা, অপরিকল্পিতভাবে মধু সংগ্রহ করা, ধোঁয়া ও আগুন ব্যবহার করে মৌমাছিকে তাড়ানোর ফলে অনেক মৌচাক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কীটনাশকের প্রভাবে মৌমাছির আচরণ, দিকনির্ণয় ক্ষমতা, মধু সংগ্রহ এবং শারীরিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘নিওনিক্স’ নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ যা মৌমাছিকে মেরে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে এই কীটনাশকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। মৌমাছির আরেক শত্রু ‘ভারোয়া’ নামক এক পরজীবী যা মৌচাক ধ্বংস করে দেয়।

‘মোর দ্যান হানি’ নামক এক তথ্যচিত্রে দেখা যায় বিশ্বের সব মহাদেশেই মৌমাছির সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ভিদের পরাগায়নে মৌমাছির সহায়তা প্রয়োজন। এই কাজ যদি কৃত্রিমভাবে করতে হয় তাহলে প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার কোটি ইউরো ব্যয় হবে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অপ্রাকৃতিক।মৌমাছির বিলুপ্তি ফল ও ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মৌসুমি ফুলের সময় তাদের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন ১০-১৫ ভাগ বাড়ে। যদি তারা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যায় তাহলে দেখা দেবে চরম খাদ্য সংকট। কারণ পরাগায়নের অভাবে বীজ উৎপাদন ব্যাহত হবে যা সরাসরি তৃণভোজী প্রাণী এবং পর্যায়ক্রমে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। এর ফলে অনেক উপকারী গাছও বিলীন হয়ে যাবে যা পরিবেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এই সংকট রোধে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। পরিবেশ রক্ষায় মৌমাছির গুরুত্ব বোঝাতে পারলেই বিলুপ্তির হাত থেকে এদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। এভাবেই আমরা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে পারব।

Advertisements