শাবনূরের নামে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ: প্রতারক চক্রের নতুন ফাঁদ!

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনূরের নামে একটি প্রতারক চক্র ফেসবুকে ভুয়া পেজ তৈরি করে সেটি ভেরিফায়েড করেছে—এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই ঢালিউড তারকা।
শুক্রবার সকালে পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে ভুয়া পেজটির লিংক ও স্ক্রিনশট পাঠালে পুরো বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পেজে থাকা তথ্য, ছবি ও কনটেন্ট এতটাই মিল ছিল যে প্রথমে তিনিও কিছুটা বিভ্রান্ত হন। পরে নিশ্চিত হন, এটি একটি জাল পেজ, অথচ ফেসবুক থেকে সেটি ভেরিফায়েড করা হয়েছে।
শাবনূর বলেন, “আমি আগে ফেসবুক ব্যবহার করতাম না, তখন অনেকেই আমার নামে আইডি খুলেছিল। কিন্তু যখন আমি নিজেই ফেসবুকে সক্রিয় হই, তখন সবাই বুঝতে পারে কে আসল শাবনূর। অনেকেই বলেছিল, আমি যেন ফেসবুক আইডি বা পেজ ভেরিফায়েড করে নিই, কিন্তু আমি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। এখন মনে হচ্ছে, সেটি করলেই ভালো হতো।”
শাবনূরের আশঙ্কা, ভুয়া পেজটি যেহেতু ভেরিফায়েড, সাধারণ মানুষ সেটিকে তাঁর আসল পেজ মনে করে নানারকম প্রতারণার ফাঁদে পড়তে পারে। “যারা এই পেজ চালায়, তারা হয়তো আমার পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জোগাড় করেছে। তা না হলে ভেরিফায়েড করত কীভাবে?”—বললেন তিনি।
পেজটি থেকে তাঁর পরিচয়ে কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে, যার দায় তাঁকে নিতে হতে পারে এ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি বলেন, “আমার আসল আইডি ও পেজ থেকে যা-ই পোস্ট করা হয়, সেই ভুয়া পেজে তা সেই মুহূর্তে পোস্ট করে দেওয়া হয়। এমনকি আমার অ্যাডমিন জানায়, তারা আমাদের ব্লক করে রেখেছে, যাতে আমরা তাদের অ্যাকটিভিটি দেখতে না পারি। এতে করে আমাদের পক্ষে প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
ভুয়া পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৯ হাজারেরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং ইতোমধ্যে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানিয়েছেন শাবনূর।
তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত হয়েছি, বাংলাদেশ থেকেই কেউ এই পেজটি পরিচালনা করছে এবং এর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ করব, প্রতারক চক্রটির পরিচয় উদঘাটন করে যেন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
এছাড়া ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন শাবনূর, যেন তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয় এবং তাঁর পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ হয়।



