২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
স্পটলাইট

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক পাইলট—এক অসমাপ্ত ইতিহাস

newslara

অনেকেই হয়তো আজ ভুলে গেছেন ফারিয়া লারার নাম। অথচ তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট প্রশিক্ষক হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অনন্য মেধাবী নারী।

১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৪ বছর বয়সে ঢাকার পোস্তগোলায় একটি সেসনা ১৫০ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

ফারিয়া লারা ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও প্রকৌশলী ফজলুল হকের কন্যা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার—একজন পাইলট হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

অসাধারণ মেধা ও নিষ্ঠায় খুব অল্প সময়েই তিনি নজর কাড়েন বাংলাদেশ ফ্লাইং অ্যাকাডেমির। পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের পর তিনি পাইলট প্রশিক্ষক হওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে ছিলেন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রশিক্ষণকালীন এক ফ্লাইটে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনার আগে প্লেন থেকে পাঠানো তাঁর শেষ বার্তাটি ছিল শিউরে ওঠার মতো—“পৃথিবীতে আমি আর কয়েক মিনিট বেঁচে আছি।”

এই বার্তা শুধু তাঁর জীবনাবসানের পূর্বাভাস ছিল না, ছিল এক অসীম সাহসিকতার বহিঃপ্রকাশ, ছিল তাঁর দৃঢ় মনোবলের নিঃশব্দ চিৎকার।ফারিয়া লারা চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন একটি প্রশ্ন—এই সমাজে মেয়েরা যখন স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্নকে কীভাবে আরও নিরাপদ, আরও সম্মানজনকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?

Advertisements

আজও তাঁর অসমাপ্ত আকাশপথের কথা মনে করিয়ে দেয়—সেই মেয়ে, যে তিন মিনিট দূরে ছিল দেশের প্রথম নারী পাইলট প্রশিক্ষকের গর্বিত পরিচয়ে।

Advertisements