Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কিভাবে শুরু হয়েছিল মা দিবসের প্রচলন?

‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন। মা তীব্র কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখতে সাহায্য করেন। তারপর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সন্তানকে যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে রক্ষার জন্য ঢাল হয়ে বেঁচে থাকেন। মাকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্য প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালিত হয়। আজ সে দিন, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মা দিবস। কিন্তু এই মা দিবসের সূচনা কোথায়, কিভাবে শুরু হয় মা দিবস উদযাপনের এ প্রচলন?

মা দিবস প্রথমবার পালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এ প্রচলন শুরু হয় আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামে এক নারীর হাত ধরে। তখন সময় ১৮৭০, যুক্তরাষ্ট্রে চলছে গৃহযুদ্ধ। দিনের পর দিন এ গৃহযুদ্ধ ভয়ংকর রূপ নিচ্ছিল। মানুষ অতিরিক্ত পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। মাত্রাতিরিক্ত এসব ক্ষতি কমিয়ে, যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি বয়ে আনার প্রত্যাশায় একটি ঘোষণাপত্র লেখেন জুলিয়া ওয়ার্ড । যা মাদার’স ডে প্রোক্লেমেশন নামে পরিচিত ছিলো।

ইতিহাস বলে জুলিয়ার লিখিত সে ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক স্তরে সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিলো। এরপর এক সময় যুদ্ধও থেমে যায়। যুদ্ধের পর পরিবার-হীন অনাথদের সেবায় কাজ করতে শুরু করেন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস। এ সময়টাতে তারাই মূলত প্রথম জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন।

আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস একজোট হয়ে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছিলেন৷ কিন্তু হঠাৎই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন আনা রিভিজ জার্ভিস। মা-মেয়ের পথ চলা হঠাৎই থেমে যায়। মাকে আকস্মিকভাবে হারাতে হয় মেয়ে আনা মেরি জার্ভিসকে। ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান তার মা।

তবে মায়ের মৃত্যুর পর একাকীত্বে ভুগে ঘরমুখো হয়ে যাননি আনা মেরি জার্ভিস। মায়ের মৃত্যুর পর আনা মেরি জার্ভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। একটি দিবস পালনের প্রচলন শুরু করা এতোটা সহজ বিষয় ছিলোনা। তাইতো তার তিন বছর সময় লেগে যায় দিনটি পালনের যাত্রা শুরু করতে। তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার আন্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালিত হয়। তবে বর্তমান সময়ের মতো করে সে সময় দিনটি পালিত হয়নি। প্রথম মা দিবস পালিত হয় অনেকটা সহজ ও সুন্দর ভাবে। আনা রিভিজ সাদা কারনেশন ফুল ভীষণ ভালোবাসতেন। তাই নিজের ও সব মায়ের সম্মানে চার্চে উপস্থিত সব মায়েদের দু’টি করে সাদা কারনেশন ফুল উপহার দেন আনা মেরি জার্ভিস। এভাবেই পালিত হয় প্রথম মা দিবস।

কিন্তু আনা মারি জার্ভিসের লক্ষ্য ছিলো অনেক বড়। ১৯১২ সালে তিনি স্থাপন করেন মাদার’স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন। এসময় তিনি মা দিবসকে ছুটির দিন করার লক্ষ্যে ও দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি প্রচারণা চালান যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সারা ফেলে দেয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯১৪ সালে তার প্রচেষ্টা সফল হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস ও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সরকারিভাবে মা দিবস পালিত হতে থাকে। আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করে। যদিও কিছু কিছু দেশ ভিন্ন তারিখেও মা দিবস পালন করে থাকে।

অনন্যা/জেএজে