Skip to content

১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাতিল বিমানের অংশের নানা ব্যবহার

আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে প্রবল ঝোড়ো বাতাস বিরল নয়৷ মুহূর্তের মধ্যেই রোদ সরিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়৷ সেখানে ঢেউ দেখতে হলে গরম জামাকাপড় সঙ্গে রাখতে হবে৷ বাতিল এক বিমানের অংশের মধ্যেও আশ্রয় নেবার সুযোগ রয়েছে৷ স্যান্ডহাউস হোটেলের ম্যানেজার পল ডাইভার বলেন, ‘‘অতিথিরা খুব পছন্দ করেন৷ এটির উপর আরাম করে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে তাঁরা মানুষের সার্ফিং, সাঁতার কাটা দেখতে ভালোবাসেন৷”

আয়ারল্যান্ডের ডনিগালের স্যান্ডহাউস হোটেলে গত বছর থেকে দু-দুটি পরিত্যক্ত বিমানের কেবিন শোভা পাচ্ছে৷ পল ডাইভার বলেন, ‘‘সমুদ্রের ধারে সব কিছুতেই মর্চে পড়ে যায়৷ জানালা, দরজা, শোবার ঘর – কিছুই রেহাই পায় না৷ এখনো পর্যন্ত এগুলি ভালোই কাজে লাগছে৷ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন নেই, মর্চেও ধরছে না৷ ভালোই বিনিয়োগ করা হয়েছে৷”

গোটা বিশ্বেই তথাকথিত বিমানের কবরখানা ছড়িয়ে রয়েছে৷ যেমন স্পেনের তেরুয়েল এ কারণে বিখ্যাত৷ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংগঠনের হিসেব অনুযায়ী সেখানে বছরে প্রায় ৭০০ বাতিল বিমান পাঠানো হয়৷ সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ ফলে যত সম্ভব যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব বাড়ছে৷

তথাকথিত এয়ারোপডস নামের কনসেপ্টের পেছনে শেন টর্নটন ও কেভিন রেগান রয়েছেন৷ দুই বছর আগে তাঁদের মাথায় এই আইডিয়া এসেছিল৷ ইতোমধ্যে তাঁরা ৩০টিরও বেশি বিমানের অংশ বাগানের ঘর, মোবাইল অফিস ও ছুটি কাটানোর জায়গায় রূপান্তরিত করেছেন৷ আকার-আয়তন ও সরঞ্জাম অনুযায়ী কোনো এয়ারপডের মূল্য ২০ থেকে ৪৫ হাজার ইউরো হতে পারে৷ কেভিন রেগান বলেন, ‘‘আমরা শেষ ফ্লাইটে সেগুলি কিনে নেই৷ আমরা ফিউসিলেজ কিনে নিয়েছি৷ ল্যান্ডিংয়ের পরেই একটা অর্ডার দিয়ে দিয়েছি৷ বিমানের বাকি সব কিছু রিসাইকেল করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে নতুন করে ব্যবহারের যোগ্য করা হয়৷ তার মধ্যে কয়েকটি আবার বিমানে কাজে লাগানো হয়৷ আমরা বিমানের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করছি৷”

দেওয়াল ও মেঝের ইনসুলেশন আরো মজবুত করতে হয়, বিমানের বডির মধ্যে নতুন করে কেবেল বসাতে হয়৷ প্রয়োজন অনুযায়ী বাথরুম ও রান্নাঘর যোগ করা হয়৷ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ছোট একটা বাড়ি তৈরি হয়ে যায়৷ কেভিন রেগান মনে করেন, ‘‘অ্যামেরিকায় বিশাল বাড়িঘরের চল থাকলেও সেখানে ছোট বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে৷ মানুষ এখন বুঝছে, যে আগের মতো আর বিশাল ভবন তৈরি করা যাবে না৷ এমন বাড়িঘর গরম রাখাও সম্ভব নয়৷”

স্যান্ডহাউস হোটেলের ম্যানেজার পল ডাইভার বলেন, ‘‘এখানে বিশাল কাঠামো গড়ার পরিকল্পনার অনুমতি পাওয়া সম্ভব নয়৷ তাই এগুলি আদর্শ সমাধানসূত্র৷ শীতকালে বা সবচেয়ে বড় ঝড়ের মাঝেও এখানে কিছুই শোনা যায় না, টের পাওয়া যায় না৷”

পড যত ছোট হবে, সেটি সহজে পরিবহণ করা যাবে ও বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগানোর সুবিধা থাকবে৷ যেমন বাণিজ্য মেলায় পণ্য প্রদর্শনের জন্য এমন সমাধানসূত্র অনেক কোম্পানির জন্য আকর্ষণীয়৷ কোম্পানির দুই প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায় পেশাদারিত্ব আনতে চান৷ সম্প্রতি তাঁরা এক স্থপতিকে নিয়োগ করেছেন৷ এয়ারোপড্স কোম্পানির কেভিন রেগান বলেন, ‘‘কর্পোরেট বাজারে অনেক আগ্রহ লক্ষ্য করছি৷ আমাদের সব নতুন ডিজাইনের জন্য একজনকে নিয়োগ করেছি৷ কর্পোরেট, অফিস বা বাণিজ্যমেলার জন্য এমন ডিজাইন করা হচ্ছে৷

আয়ারল্যান্ডের এই দুই মানুষ ইউরোপ মহাদেশেও ব্যবসা বিস্তার করার স্বপ্ন দেখছেন৷ কারণ সেখানেও ঘর গরম রাখার ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং অনেক জায়গায় রুক্ষ সমুদ্রও আছে৷

অনন্যা/এআই

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ