Skip to content

৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার পথের বাধা দূর করো

আবহমানকাল ধরে নারীরা এ সমাজে নির্যাতিত৷ সময়ের সঙ্গে যুগের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হলেও নারীর প্রতি পরিবার-সমাজের কোনো বদল ঘটেনি। আগেও নারীকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হতো একুশ শতকে এসেও নারী ঠিক তেমনভাবেই মূল্যায়িত। পরিবার-সমাজে নারী শৈশব থেকেই নিগৃহীত। আজন্ম নারীরা এই শোষণ থেকে মুক্তি পায় না। আর এই শোষণ থেকে মুক্তির একমাত্র সহায়ক হতে পারে নারীর স্বাবলম্বিতা। নারীরা যদি নিজের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম হন তবে এ সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করা নারীর জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

পরিবার শিশুর অন্যতম শিক্ষালয়। আর এই পরিবার থেকেই কন্যা শিশুর সঙ্গে শুরু হয় অন্যায়-অবিচার- শাসন-শোষণ। ছেলে সন্তানকে যেখানে বাবা-মা বা অভিভাবকবৃন্দ সাবলম্বী করতে চান, ভালো স্কুলে পড়িয়ে, ভালো ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়ে গড়ে তোলেন মেয়ের ক্ষেত্রে তা করেন না। অধিকাংশ বাবা- মা কন্যা সন্তানের শিক্ষার ওপর আজও গুরুত্বারোপ করেন না। কোনরকমে স্বাক্ষর করা বা ন্যূনতম যেটুকু শিক্ষা নাহলে তার সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী পাত্রস্ত করতে সক্ষম হবেন না ঠিক ততটুকুই দিতে চেষ্টা করেন। আজও গ্রামের অধিকাংশ লোকজন মনে করেন মেয়ে ক্লাস সেভেন- এইট পাস করেছে এই ঢের হয়েছে। যার প্রমাণ মেলে বাল্যবিবাহের পরিসংখ্যান দেখলে। কিন্তু নারীর জন্য শিক্ষার গুরুত্ব কতটা বোধসম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই তা অনুধাবন করেন।

আজও যৌতুকের জন্য অধিকাংশ ঘরে নারীর ওপর নির্যাতন চলে। শিক্ষিত- অর্ধশিক্ষিত- অশিক্ষিত সব স্তরের পুরুষই তাদের অর্থমূল্য সম্পর্কে জ্ঞাতব্য। শিক্ষিত হলে বিবেক জাগ্রত হওয়ার চেয়ে তার হাকডাক আরও বৃদ্ধি পায়! শ্বশুরবাড়ির যৌতুকের ওপর এতটাই লালসা থাকে যে, চাহিদা অনুযায়ী প্রাপ্তি না ঘাটলে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চলতে থাকে। এখন আবার অনেক এলাকায় যৌতুকের আধুনিক নামকরণ হয়েছে গিফট! শ্বশুরবাড়ি থেকে এই গিফট তাদের মনোপূত নাহলে নারীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেও পিছপা হয় না এ শ্রেণি।

গণমাধ্যম এবং সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘাটলেই উঠে আসে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা। সময়ের সঙ্গে এই শ্রেণি তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। নারীর প্রতি এতটা রূঢ় হয়ে ওঠে আনার তারাই নাটকের অংশীদার হয়। আর মেয়েটির পরিবার পরিবারের মান- সম্মানের কথা ভেবে একের পর এক অন্যায় আবদার মানতে থাকে৷ যা একসময় প্রকট আকার ধারণ করে নারীটিকেই গ্রাস করে। যৌতুকের মতো এত জঘন্য প্রথার নিষ্কৃতি ঘটাতে নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গত্যন্তর নেই।

নারী যদি স্বাবলম্বী হন তবে তিনি নির্যাতন- অবেহলার প্রতিবাদ করতে পারবেন। কারো সমর্থন না থাকলেও নিজ পায়ে দাঁড়ালে নারী নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে সক্ষম হবেন। সমাজে এমন অনেক ঘটনা দেখা যায়, বাল্যবিবাহের শিকার নারী স্বামীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। কেউ বা অকালে স্বামীকে হারাচ্ছে এমন বিবিধ সমস্যায় একমাত্র সহায়ক নারীর স্বাবলম্বিতা। নারী যদি নিজে অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা না রাখেন তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তো দূর শত গঞ্জনাও তাকে নীরবে সহ্য করতে হয়। কারণ একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই! ফলে সংসারিক যত সমস্যায় হোক নারীকে চুপ থাকতে হয় পাছে সংসার বিচ্যুত হন!

শুধু সাংসারিক দ্বন্দ্ব-জটিলতায় নয় জীবন চলার পথে নানাবিধ সমস্যা আসতে পারে। কারণ আমরা জানি, জীবন পুষ্পশয্যা নয়। ফলে এ পথে কাঁটা থাকবেই। এই কাঁটাকে তুলতেও নারীর যোগ্যতা খুব প্রয়োজন। অধিকাংশ সমস্যার সমাধান অর্থের মধ্যে নিহিত। তাই নারী যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয় তবে অনেক জটিলতা নিমেষেই সমাধান করা সম্ভব হয়। ফলে নারীকে স্বাবলম্বী হতেই হবে। নারীরা যদি একটু চিন্তামুক্ত বা জটিলতাহীন জীবনযাপন করতে চান তবে নারীকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। স্বাবলম্বী হতে হবে। যদি কলন নারী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিতও হন তাকে তার নিজ অবস্থান অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত প্রত্যেক নারীর উচিত নিজের জীবনের নিরাপত্তা গ্রহণ করা। আর এই নিরাপদ জীবন গড়ে উঠতে সক্ষম করে অর্থ। ফলে নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার বিকল্প কোনো পথ নেই।

সমস্যাসংকুল পৃথিবীতে বেঁচে থাকা বা টিকে থাকতে হলে নারীকে স্বাবলম্বী হতে হবে। নারীরা যদি স্বাবলম্বী হন তবে জীবনের সমস্যাগুলো অনায়সে এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন। নারীর নিরাপদ এবং সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে তাই নারীর স্বাবলম্বী হওয়া অতীব জরুরি।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ