Skip to content

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রাইমারি হেলথ কেয়ার: নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা হোক

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনকে সুরক্ষিত করতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইমারি হেলথ কেয়ার গঠন করা হয়েছে।’ উদ্যোগটি বাস্তবানুগ, তাই প্রশংসীয়।
প্রাইমারি হেলথ কেয়ার গঠনের ফলে বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কারণ স্কুলে থাকা অবস্থায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে। এ সময় তারা বয়ঃসন্ধি কাল পার করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেক সময় সেসব সমস্যা সম্পর্কে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। কিন্তু বিদ্যালয়ে হেলথ কেয়ার গঠনের মাধ্যমে তারা বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে পারবে। এতে করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি যতটা কমবে ঠিক ততটা তারা নিজেদের কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে। এর ফলে স্কুল ও কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ফলে স্কুল-কলেজগুলো যেমন এর সুফল ভোগ করবে তেমনই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রাণবন্ত উপস্থিত বাড়বে।

ফলে কয়েকদিক থেকে জাতি লাভবান হবে:
প্রথমত, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ফলে শারীরিক উন্নতি ঘটবে
দ্বিতীয়ত, পড়াশোনায় মনোযোগী হবে
তৃতীয়ত, স্কুল-কলেজে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে
চতুর্থত, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসবে

স্কুল ও কলেজে হেলথ কেয়ার গঠনের ফলে বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। পরিবারের সঙ্গে অনেকের ঘনিষ্ঠ বোঝাপড়া গড়ে ওঠে না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তের কাতারে। ফলে দিন আনা দিন খাওয়াতে যাদের জীবন পরিচালনা করতে হয় তারা নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে মনোযোগী নয়। তারওপর মেয়ে। আমরাজানি পরিবারেরও মেয়েরা সর্বদাই নিগৃহীত হয়। একজন ছেলে সন্তানের বেড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে বাবা-মা যতটা যত্নশীল মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে ঠিক ততটা নয়। ফলে তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও পরিবারের অনুদার ভূমিকা থাকে। কিন্তু স্কুল-কলেজগামী নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনও ঘটে। প্রাথমিক হেলথ কেয়ার গঠনের ফলে স্কুল- কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুনভাবে আশার আলো ফুটলো।

স্কুল-কলেজগামী নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমলে তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। ক্লান্তি, অবসাদ, হতাশা থেকে মুক্তি পাবে। এতে তারা পড়াশোনায় বিশেষভাবে মনোযোগী হবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে একটি সুস্থ-সুন্দর জাতি গঠনে তারা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। নারীদের অংশগ্রহণ যত বাড়বে জাতিও ঠিক ততটাই উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাবে দ্রুত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ফলে নারী শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে অংশগ্রহণ বাড়বে। মাসিকের মতো নানা শারীরিক জটিলতায়ও স্কুলে অনুপস্থিতির হার কমবে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তারা সচেতন হয়ে উঠবে স্কুল- কলেজ থেকে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতাও কমে আসবে নারীদের।

এই উদ্যোগের ফলে শুধু যে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হবে এমন নয়; শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হবে, ঝরে পড়ার সংখ্যাও কমে আসবে, বাল্যবিবাহও কমে আসবে। গ্রাম ও শহরে সর্বত্রই প্রাথমিক হেলথ কেয়ারের উদ্যোগ যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ণ হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। এটি নারীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ার বিশেষ টোটকার মতো কাজ করবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ