Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নারীকে শুধু মানুষ ভাবুন

মানবসৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকেই নারী-পুরুষের পরস্পর সহোযোগিতায় গড়ে উঠেছে পৃথিবী। তবে শুধু লিঙ্গজনিত কারণে নারীকে নারীরূপেই দেখা হয়। কিন্তু নারী কি শুধুই নারী? শুধু নারী নাকি মানুষও এ বিষয়ে তেমন স্বীকৃতি নেই। অর্থাৎ এ সমাজ-সংসার নারীকে মানুষ হিসেবে স্বীকার করতে চায় না। কারণ নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হলে নারীও যে পুরুষের সমকক্ষ হয়ে ওঠে! তাই এ সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা মোটেই তা হতে দিতে চায় না।

কিন্তু এই নারীরাই সমাজের স্তম্ভ। বংশ রক্ষায় গর্ভধারণ করে। সন্তান লালন-পালন করে মায়া-মমতার সাহায্যে বেঁধে রেখেছে সমাজবদ্ধ জীবনযাপন পদ্ধতি। তবু নারীকে হেয়-প্রতিপন্ন করা হয় প্রতিনিয়তই। শুধু নারী বলে স্বীকার ও বিশ্বাস করার কারণে নারীকে বাইরের পৃথিবী থেকে অনেকটা দূরে রাখা হয়। নারী যেন কোন এক রোগাক্রান্ত রুগী। যাকে বাইরের আলো-বাতাসে নিয়ে আসলে দূষিত-বিষাক্ত বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়বে!

আজকের যুগে এসেও অধিকাংশ পরিবার কন্যাশিশুকে খুব লুকোচুরি করে জীবনযাপন করতে শেখান। নারী কোনবিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিতে পারে না। যথেচ্ছ বিচরণ করতে পারে না। সবধরনের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। প্রভৃতি জীবনযাপনের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছাতে পারে না জ্ঞানের সমুদ্রে। ফলে এই কন্যারাই যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে মা হচ্ছেন ঠিক তখন একই আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তার নিজের কন্যাটির সঙ্গেও। ফলে সমগ্র জাতির মধ্যে কূপমুণ্ডুক মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা।

সামাজিক শাসন-শোষণের যে বাধা-নিষেধ পেরিয়ে নারীকে জীবনযাপন করতে হয় ঠিক একই বৃত্তে নিজ কন্যা সন্তানকেও গড়ে তুলছেন এসব পরিবার। কারণ বেশিরভাগ বোঝেনই না যে এই বৃত্তের বাইরেও জীবন আছে। যে জীবন সুন্দর ও কল্যাণের কামনা করে। ফলে অজ্ঞতার কারণে অধিকাংশের কাছে ধরা দেয় না প্রকৃত জীবনরূপ! থেকে যায় আলো-আঁধারির ধোঁয়াশায়। যে ধোঁয়া আজীবন কাঁদায় এই নারীকেই। জীবন চলার পথ বিচিত্র-বিভৎস রকম সুন্দর। প্রতিটি মুহূর্তে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যে টিকে থাকে সেই জয়ী। কিন্তু আমাদের সমাজ নারীকে নারী হিসেবে ভাবতে শেখায়। বুঝতে শেখায়। ফলে নারী গড়ে ওঠে দুর্বল চিত্ত নিয়ে। জীবনে কোনো আঁকা-বাঁকা পথের সন্ধান পেলেই ইহজগত থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়। জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় অনাগ্রহে-অবহেলায়।

তবে এর প্রকৃত কারণ নারীদের শুধু নারী হিসেবে স্বীকার করা। বরং নারী একজন প্রকৃত মানুষ। পুরুষের মতোই নারীও মেধা-জ্ঞান-প্রজ্ঞায় সমতুল্য এ বিষয়ে সমাজে আজও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যতদিন এ সন্দেহের বীজ মানব মনে গেঁথে থাকবে ততদিন নারী নিজেকে আবিষ্কার করতে ব্যর্থ।

তবে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে সত্য এটাই শুধু দৈহিক আকৃতি-প্রকৃতির পার্থক্য ছাড়া নারী-পুরুষের কোনই পার্থক্য নেই। তবে অনেকেই মনে করবেন, পুরুষের তুলনায় নারীর শক্ত-সামর্থ্য কম। তাহলে উল্লেখ করতেই হয়, বর্তমান সময়ে এসে নারীরাও মার্শাল আর্ট শিক্ষা দিচ্ছে, বডিবিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছেন নিজেদের। ফলে মূল কথা হলো চর্চা, ভয়হীন চিত্ত, সামাজিক সাপোর্ট। তাই সমাজ যদি নারী হিসেবেই মূল্যায়ন করে তবে এ শ্রেণি কোনোদিন তাদের গণ্ডি থেকে বের হতে পারবে না। এরজন্য জরুরি শৈশব থেকেই নারীকে বিশ্বাস করাতে হবে সে মানুষ। আমাদের মানসিকভাবে এই বিশ্বাস ধারণ করতে হবে, একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষ যা পারে নারীও ঠিক তাই পারে। শুধু কাজটি পরিপূর্ণভাবে করে তুলতে দরকার পারস্পরিক সহোযোগিতা। তাই সব বিভেদ ভুলে নারীকে নারী হিসেবে নয় বরং মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। আর মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারলেই নারীরা আরও এগিয়ে যাবে দেশের কল্যাণের পথে। গড়ে তুলতে পারবে সুন্দর -সুষ্ঠু-কল্যাণময় পৃথিবী।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ