Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাফ চ্যাম্পিয়ন নারীদের নিয়ে যা বললেন তরুণীরা

লক্ষ্য ঠিক থাকলে বিজয় আসবে। তার প্রমাণ মিলেছে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে। ইতিহাস লিখে বাংলাদেশ হয়েছে সাফের রানি। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররাও যে পিছিয়ে নেই, দিয়েছেন সেই প্রমাণ। বাংলার বাঘিনীরা গর্জে উঠেছেন। দেখিয়েছে নিজেদের অবস্থান। নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ আজ চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের এই জয় পুরো দেশের মানুষের অর্জন। নারী ফুটবলরা দেশের অহঙ্কার, তারা দেশের গর্ব। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের বিজয়ে তরুণীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন, বলেছেন নিজেদের কথা।

নাহিন আশরাফ বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জয় নিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি খেলাধুলা ভক্ত নই, খেলা আমার খুবই কম দেখা হয়। কিন্তু এই জায়গা আমাদের দেশের নারীরা খেলছে বলে কথা! নারীরা যে চাইলেই সব পারে, এটা তার একটা বড় প্রমাণ। অনেকেই মনে করে, নারীর জায়গা শুধু রান্নাঘর, এই বিজয় তাদের জন্য উপযুক্ত জবাবও বটে। আজ আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে সামনের দিনে আমাদের ভালো কিছু করার শক্তি জুগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে আমরা নারী, আমরাও পারি।’

সাজ হোসেন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের এই জয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীরাও এখন আর খেলাধুলায় পিছিয়ে নেই। তারা নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করে দিয়েছে। আজ পুরো দেশের কাছে নারী ফুটবল দল আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিজেদের সেরাটা দিয়ে নিজেদের অবস্থানটা বুঝিয়েছে তাই মহিলা ফুটবল খেলোয়াড়দের বেতন এবং অন্যান্য স্বীকৃতির ক্ষেত্রে পুরুষ ফুটবল খেলোয়াড়দের মতো একই আচরণ করা উচিত।’

রিদিতা সাহা বাংলাদেশের জয় সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে যখন নারী ফুটবলাররা প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন সত্যিই বিষয়টি অনেক আনন্দের। নারীদের জন্য সত্যিই এটি একটি গর্বের বিষয়ও বটে। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণারও। তারা আমাদের শক্তি জুগিয়েছেন, আমরা যেন আগামীতে নিজের দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ পেলে তা করি। নিজেদের অবস্থান থেকে সবাই এগিয়ে যাই। মেয়ে হয়েছি তো কী, আমরাও সব করতে পারবো এই শক্তিই জুগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

ইন্দ্রানী মল্লিক বলেন, ‘বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের সাফ চাম্পিয়নশিপের জয়ের সংবাদটি সত্যিই অনেক আনন্দের ও গর্বের বিষয়। নারীরা আর কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই। একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই বিজয়ের মাধ্যমে আরও একবার প্রকাশ পেয়েছে। নারী ফুটবলার আর পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান বেতন দেওয়া বিষটিও উঠে এসেছে। কিন্তু এখানে সর্বপ্রথম আমাদের ইকুয়াল মার্কেটিং, প্রাকটিস ফ্যাসিলিটিস এসবের দাবি রাখতে পারি। যার ফলে অনেক নারী স্পোর্টসের দিকে আসবে এবং জনপ্রিয়তা পাবে। সবশেষে বলতে পারি, সানজিদা আক্তার যে কথাটা বলেছেন, ‘সমাজের টিপ্পনিকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো সবুজ ঘাস ছোয়াতে সাহায্য করেছে তাদের জন্য জিততে চাই।’ আমরাও যেন তাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করতে পারি। আমরা যেন তাদের এই সমাজের টিপ্পনি না হই।’

তানহা তাসনিম ইফাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীদের অর্জনটি দেশের মানুষের অহঙ্কার। তিনি নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সংবাদটি শুনে খুবই খুশি হয়েছেন। এটি সবার জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। নারীদের জন্য এটি একটি নতুন চমকও হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সবার নিজেদের দুর্বলতাকে কাটিয়ে তুলে নিজেদের ভিতকে শক্ত করে তুলতে হবে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে প্রতিটি খেলোয়াড়দের মতো নিজেদেরও তৈরি করতে হবে আত্মবিশ্বাসী। তবেই এগিয়ে যেতে পারবে সবাই।’