Skip to content

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চোখের রং কেন নীল হয়?

আমরা চোখের রং বলতে সাধারণত সাদা এবং কালো এই দুইটি রংয়ের সাথেই পরিচিত। কারো চোখের প্রশংসা করতে গেলে আমরা 'কাজল কালো চোখ' এই তিনটি শব্দই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কিছু কিছু মানুষকে চাইলেও এ শব্দগুলো দিয়ে তাদের চোখের সৌন্দর্যের প্রশংসা করা যাবে না। কারণ, কিছু কিছু মানুষের চোখের রং কালোর পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। যেমন- কারো নীল, কারো সবুজ, কারো বাদামী আবার কারো ঘোলাটে।  

বিভিন্ন রংয়ের চোখকে আমরা আবার বিভিন্ন নামও দিয়ে থাকি। সাপের চোখ, বিড়ালের চোখ, বাঘের চোখ আরো কত কি। যাকে বাঘের চোখের সাথে তুলনা করা হয়, সে বেশ গৌরবের সঙ্গে নিজেকে প্রকাশ করে। আবার যাদেরকে বিড়ালের চোখের বা সাপের চোখের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তারা একটু কষ্টেই থাকে বটে। তবে এসব কিছুর বাইরে কখনো কি ভেবেছেন, কেন কিছু কিছু মানুষের চোখের রং কালো না হয়ে নীল, সবুজ কিংবা বাদামি রংয়ের হয়? 

 

 

গ্রামাঞ্চলে হরহামেশা এর কারণ স্বরূপ বিভিন্ন গল্প বানিয়ে বলা হলেও এর আসল কারণ জানতে একটু বিজ্ঞানের সহায়তা নিতে হবে। সাধারণত, চোখের আইরিশে মেলানিনের পরিমাণ, প্রোটিনের ঘনত্ব এবং আইরিশে স্ট্রোমার অস্বচ্ছ অংশে আলো কতটা বিচ্ছুরিত হচ্ছে ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে চোখের রং নির্ধারিত হয়।

 

 

এতো ভারী ভারী শব্দ হয়তোবা মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। তবে চলুন একটু সহজ ভাষায় বোঝা যাক। আপনার চোখের রংয়ের অংশটুকুকে বলা হয় আইরিশ। এই আইরিশের গঠন দুই লেয়ারের, পেছনের লেয়ার হলো এপিথেলিয়াম এবং সামনের লেয়ারটি স্ট্রোমা। এই দুইটি লেয়ারে দুধরনের কাজ হয়। এপিথেলিয়ামে কালো, বাদামি পিগমেন্ট থাকে। আর স্ট্রোমা রংহীন ফাইবার দ্বারা গঠিত হয়ে থাকে। মূলত এই দুটি ফ্যাক্টরই চোখের রং কেমন হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এই চোখ নানান রংয়ের হওয়ার পেছনে স্ট্রোমার হাত একটু বেশি। কখনো কখনো স্ট্রোমাতে মেলানিন নামক ডার্ক পিগমেন্ট থাকতে পারে যা চোখ কোন রংয়ের হবে তা নির্ধারণ করতে পারে৷

 

 
যেমন ধরুন- মেলানিন অতিরিক্ত বেশি হলে চোখ ধূসর রংয়ের হবে। আর মেলানিন অতিরিক্ত কম হলে চোখ হবে সবুজ রংয়ের। তবে নীল রংয়ের চোখের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিছু ভিন্ন। যাদের নীল চোখ, তাদের স্ট্রোমাতে কোনো রং নেই। তাদের কোনো পিগমেন্টও নেই। ফলে পিগমেন্ট দ্বারা বিভিন্ন রংয়ের আলো চোখ শুষে নিতে পারে না। নীল চোখ যাদের তাদের কোলাজেন ডিপোজিটও নেই। নীল চোখের মণিতে সূর্যের আলো পড়ে বহুরঙের আলোর প্রতিফলন ঘটে, তবে যিনি দেখছেন তার কাছে শুধু নীল রঙই পৌঁছায়। এজন্য তিনি বা তারা সামনের মানুষটির চোখের রং নীল দেখতে পান।  

 

এছাড়াও চোখের রং কালো না হয়ে নীল বা অন্য কোনো রং হওয়ার পেছনে কিছু রোগের কথাও বলা হয়। চোখের পিগমেন্টের অভাবে হয় অ্যালবিনিজম। এই রোগে আক্রান্তদের চোখ অস্বাভাবিক রংয়ের হতে পারে। শুধু চোখই নয়, চুল এবং  ত্বকও বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে এ রোগের কারণে। যে অ্যালবিনিজমের কারণে চোখের রং বদলে যায়, সেটাকে আবার বলা হয় অকুলার অ্যালবিনিজম। অকুলার অ্যালবিনিজমে মানুষের চোখের মণির রঙ সবুজ থেকে নীল এমনকি বাদামী রঙ ধারণ করতে পারে। 

 

এছাড়াও বংশপরম্পরায় জিনগতভাবে চোখ বিভিন্ন রংয়ের হতে পারে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে বলেন, নীল চোখের মানুষের প্রথম দেখা মিলেছিলো আজ থেকে আনুমানিক ৬ থেকে ১০ হাজার বছর পূর্বে। তাদের মতে, তখন জেনেটিক পরিবর্তন ঘটে এক জাতির মধ্যে। এই পরিবর্তন মেলানিন ও পিগমেন্টের উপরে হয় যা আমাদের ত্বক, চুল, চোখের রং নির্ধারণ করে। সে সময় থেকে ক্রোমোজোমে থাকা OCA2 নামক একটি জিন বিবর্তনের কারণে চোখের রং নীল হতে শুরু করে।  

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ