Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে চার হিন্দু নারী

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এই প্রতিপাদ্যে বর্তমান সময়ে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করছে ও চলাফেরা করছে। ধর্মনিরপেক্ষতাই সমাজে সকল ধর্মের মানুষকে একই অবস্থানে নিয়ে আসছে। শুধু যে এই বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয় এমন না। ওপার বাংলায়ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়।

 

ভারতীয় সংবিধানে বরাবরই মোটা হরফে জ্বলজ্বল করে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র কথা, সম্প্রীতির কথা, কিন্তু ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণের কথা নিয়ে চলছে বিস্তর, অনেকে বলছেন বিশেষত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচ্ছন্ন উদ্দীপনায় তা মাথা চাড়া দিচ্ছে। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা'র সম্প্রীতির চিত্র এক অন্য মাত্রা নিলো। হিন্দু নারীরা দায়িত্ব নিলেন মাদরাসা হাইস্কুল প্রধানের।

 

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শিক্ষা মহলের মতে এই নজির সম্প্রীতির এক অন্য চিত্র তুলে ধরল। মাদরাসা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অমুসলিম, কথাটা তেমন প্রচলিত ছিল না। কোনো মুসলিম ব্যক্তিই দায়িত্ব পেয়েছেন এই পদের, প্রচলিত এই মতের ভাঙন ঘটল হিন্দু নারীদের দায়িত্বের মধ্য দিয়ে।

 

দীপান্বিতা পাল, দেবশ্রী কর্মকার, টুম্পা হালদার, অনিতা তন্তুবায়- এই চার নারীর হাত ধরেই ভাঙছে মানুষের মনে গড়ে ওঠা মাদরাসা নিয়ে প্রচলিত ধারণা। 

 

পাণ্ডুয়ার সুলতানিয়া হাই মাদরাসায় প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন চুঁচুড়ার দীপান্বিতা পাল। বহুদিন মাদরাসায় শিক্ষিকা হিসেবে পড়ুয়াদের মধ্যে শিক্ষার আলো বিতরণ করেছেন তিনি। তবে এবার জীববিদ্যার শিক্ষিকা দীপান্বিতা পালন করবেন মাদরাসা হাইস্কুল-এর প্রধানের ভূমিকা।

 

অন্যদিকে, অনিতা তন্তুবায় দায়িত্ব নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের বনদুটিয়া হাই মাদরাসার। টুম্পা হালদার পাচ্ছেন পুরুলিয়ার ফতেডাঙ্গা হাই মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব। আর দেবশ্রী কর্মকার যাচ্ছেন উত্তর দিনাজপুরের এমএনআই হাই মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হয়ে।