Skip to content

২রা জুন, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

তৈরি হবে ‘সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত’ শহর!

বর্তমানে চারদিকে যখন কেবলই দূষণ আর দূষণ।  ঠিক তখনই সৌদি আরব নিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। ২০২৪ সালের মধ্যে 'সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত'  শহর তৈরি করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। যে শহর চলবে না কোনও গাড়ি। এমনকি থাকবে না গাড়ি চলাচলের কোনো রাস্তাও।

 

এই শহর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছর থেকেই। এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে 'দ্য লাইন'।  প্রকল্পটির নাম 'দ্য লাইন' রাখার পেছনে কারণ হলো,  উপর থেকে শহরটির ছবি তুললে মনে হবে যেন কেউ জঙ্গলের মধ্যে একটা লাইন এঁকে দিয়েছেন। ১০৫ মাইল দৈর্ঘ্য নিয়ে গড়ে উঠবে একটি লাইনের মতো দেখতে এই শহরটি।  তিনটি স্তর থাকবে এই শহরটিতে। একেবারে উপরের স্তর থাকবে মাটির উপরে। সেখানে শুধুমাত্র হাঁটার পথ থাকবে, কোনো ধরণের যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকবেনা উপরের স্তরে। 

 

তবে একটি শহরজুড়ে একদমই গাড়ি চলাচল না থাকলে কিভাবে হবে? আবার পরিবেশ দূষণ ঠেকানো যে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।  তাইতো এর নীচের দু'টি স্তর রাখা হবে ভূগর্ভস্থ। সেখানে গাড়ি চলাচলের রাস্তা থাকবে। দ্বিতীয় স্তর মূলত পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা থাকবে। তৃতীয় স্তর দিয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন ট্রেন এবং অন্যান্য যানবাহন যাতায়াত করবে। এর ফলে একেবারে উপরের স্তর থাকবে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত, যা এই প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য ।

 

এই শহরটি যেহেতু তৈরি করা হচ্ছে পাহাড়-জঙ্গল কেটে।  তাই  যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি কম করার জন্যই তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে শহরটিকে। যাতে করে এই শহর নির্মাণের জন্য কম সংখ্যক গাছ-পাহাড় কাটা যায়।

 

জনসংখ্যার দিক থেকে হিসেব করতে গেলে ১০ লাখ মানুষ একসঙ্গে বাস করতে পারবেন এই শহরে। এই শহরের জরুরী প্রয়োজনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হবেনা।  শহরের নকশা এমনভাবেই বানানো হবে, যাতে হাসপাতাল, স্কুল, রেস্তোরাঁ সর্বত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে এই শহরের বাইরে আশেপাশে অঞ্চলে তো ৫ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব হবেনা। তাই এই শহর থেকে আশপাশের অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন হবে তৃতীয় স্তরের যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে।

 

এই শহরটির পর্যবেক্ষণের জন্য নেয়া হবে প্রযুক্তির সাহায্য। পুরো শহরকে পর্যবেক্ষণে রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি। রোজকার জীবনে বাসিন্দাদের শহরে থাকতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হলে সেটিও নথিভুক্ত করে ভবিষ্যতে সেই সমস্যা সমাধান করে দিতে সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকবে সেখানকার বিনোদনের জন্যও। বিনোদনের জন্য ড্রোন ট্যাক্সি, জুরাসিক পার্কের মতো ব্যবস্থা থাকছে।

 

ভিন্নধর্মী এই পুরো প্রকল্পটিই 'নিওম' নামে একটি প্রকল্পের অধীন। এটি ৫০ হাজার ডলারের প্রকল্প। সৌদি আরবের তাবুক প্রদেশের দশ হাজার বর্গমাইল এলাকায় গড়ে উঠছে এই প্রকল্প। সৌদি আরব এই প্রকল্পে ২০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অন্তত তিন লাখ ৮০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ৪৮০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ