Skip to content

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য আর কতদিন?

কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বর্ধিত হলেও ন্যায্য মজুরি  থেকে শুরু করে ছোটো ছোটো অনেক শব্দ চয়ন এমনকি পদে পদে হীনমন্যতার খাতিরে নানা রকমের বৈষম্যমূলক আচরণের স্বীকার হতে হয়।  

 

প্রথমত বেতন৷ শুধুমাত্র বাংলাদেশে না বরং অনেক দেশেই নারী পুরুষের চেয়ে বেশী শিক্ষাগত যোগ্যতায় অগ্রসর হলেও নারী কে কম বেতনে চাকরি করতে হয়। যদিও বাংলাদেশে এখন নারী পুরুষের  মজুরিগত বৈষম্য অনেকটাই কমেছে। তবুও সমতা এখনো পায় নি৷ 

 

মজুরীগত বৈষম্য ছাড়াও অনেক রকমের বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। যেমন, নারী কে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার প্রতি একটা প্রচলিত অনীহা। প্রযুক্তি খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো অনেক কম। অফিস বহির্ভূত কাজের বিজ্ঞপ্তি তে পর্যন্ত কেবল পুরুষ আবেদনকারীদের দরখাস্ত করত উৎসাহিত করা হয়৷ গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২০ অনুযায়ী বাংলাদেশ এ নারী উদ্যোক্তার হার এখনো ১.৭০ ভাগ। পোশাক খাতে শ্রমজীবী একজন পুরুষের তুলনায় শতকরা ২০ ভাগ কম উপার্জন করে থাকে। 

 

যদিও নারীকে সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার কথা বিবেচনায় রেখে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে হয় তাই অফিস বহির্ভূত কাজে তাঁদের অংশগ্রহণ সীমিত। তবে এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীর কর্মদক্ষতা প্রশংসনীয়ই বলা যায়। 
দুজন স্নাতক ডিগ্রীধারী মানুষের যোগ্যতার ভিত্তিতে বেতন সমান হওয়া উচিত।  তবে এক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ জানানো হলে সেক্ষেত্রে চাকরি ছেড়ে দেয়ার জন্য তাকে উৎসাহিত করা হয়। 

 

তবে মজুরীর বৈষম্যই একমাত্র প্রভেদতা নয়। আচরণগত দিক থেকেও  লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট। আসপিয়া ইসলাম এর প্রতি একটি অবান্তর তর্কই ধরা যাক। সকলেই এই বিষয়ে জ্ঞাত যে, আসপিয়া ইসলামের জমি না থাকায় উনাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। তবে বিষয়টা কতটুকু বৈধ যুক্তি এবং পুলিশ কন্সটেবল পদে এপর্যন্ত সকল প্রার্থীর চাকরি পেতে নিজ নিজ জমির কাগজাদ দেখিয়ে চাকরি পেতে হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাওয়াটা একটি ন্যায্য দাবী। নাকি এই নিয়মই কেবল নারীদের জন্য সুপ্ত ভাবে বিরাজ করছিলো এতদিন?  

 

নারীকে অবদমিত রাখার জন্য দিন দিন যেন নতুন সব পন্থা আবিষ্কৃত হচ্ছে। নারীর প্রতি করুণাময় দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করলে হয়তো তার রোজকার জীবনের হীনমন্যতাটুকু দূর হয়। হয়তো তার আত্মবিশ্বাস তাকে আরো বেশী ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়। 

 

কারণ একজন নারী কর্মক্ষেত্রে আসে নিজেকে এ সমাজের একজন দায়িত্বশীল এবং প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ করার আত্নবিশ্বাস নিয়ে৷ নিজেকে কেবল ঘরের কোনে লুকিয়ে রেখে দেয়ার জন্য নয়৷ সমাজ তার প্রতি যে অবহেলা আর বোঝার দৃষ্টিপাত ছুড়েছে সেটাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য। একজন মানুষকে যদি তার মাথা উঁচু করে রাখার স্বপ্ন শুরু করার আগেই নষ্ট করে দেয়া হয় তাহলে সেটা বর্বর আচরণ। নারী একটি দেশের জনগণের অর্ধেক জনগণ। যে চাইলেই নিজের কর্মদক্ষতা, শ্রম ও মেধাকে প্রমাণ করে দেশের বিভিন্ন কর্মখাতে পুরুষের সমান ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ