Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অনিয়মিত মাসিকের কারণ হতে পারে ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’!

গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকারের একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। যা থেকে উৎপন্ন থাইরক্সিন হরমোন শরীরের বিপাক ক্রিয়া পরিচালনা, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির ভারসাম্য সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। হাইপারথাইরয়েডিজম হলো এমন একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থা যখন থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্রমাগত থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদন করে। পুরুষের তুলনায় ২০ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। আর এই সমস্যার কারণে নারীদের মাসিকের প্রবাহ হালকা ও অনিয়মিত মাসিকও হতে পারে ।  

 

হাইপারথাইর‍য়েডিজম নানা কারণে হতে পারে। গ্রেভ’স ডিজিজ নামক এক ধরনের অটোইমিউন রোগ, টক্সিক থাইরয়েড নডিউল, মাল্টিনডিউলার গয়টার, পিটুইটারি কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যানসার, অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ, বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত কারণে, প্রসব পরবর্তী কিংবা ভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থিতে সৃষ্ট প্রদাহ ইত্যাদি কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে অত্যধিক পরিমাণে থাইরক্সিন ও ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন নির্গত হয়। 

 

দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যক্তি যদি সবসময় ঘাবড়ে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ঘাম বৃদ্ধি হওয়া, হৃৎপিন্ডের দ্রুত সঞ্চালন, বুক ধড়ফড় করা, অনৈচ্ছিকভাবে হাত কাঁপা, অস্থিরতা, অনিদ্রা, চুল সূক্ষ্ম ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, বসা অবস্থান থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা চুল আঁচড়াতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তাহলে তার দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। কারণ এগুলো হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ প্রকাশ করে।

 

এছাড়া হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির ডায়রিয়া, গয়টার বা থাইরয়েড গ্রন্থির স্ফীতি, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা সত্ত্বেও দ্রুত ওজন হ্রাস, বমি বমি ভাব, গরমের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের প্রবাহ হালকা এমনকি অনিয়মিত মাসিক প্রভৃতি উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

 

লক্ষণ অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে হাইপারথাইরয়েডিজমের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া গ্রন্থির সমস্যার লেভেল, আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স এবং শরীরে হরমোন স্তরের দ্বারা প্রদর্শিত কার্যকলাপ অনুসারে হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত তিন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যার চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। একটি হলো অ্যান্টিথাইরয়েড জাতীয় ওষুধের প্রয়োগ, একটি হলো সার্জারি বা অস্ত্রোপচার এবং আরেকটি পদ্ধতি হলো তেজস্ক্রিয় আয়োডিন প্রয়োগ করে থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কর্মক্ষম অংশ অ্যাবলেশন করা।

 

প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ প্রয়োগ করে চিকিৎসা করা হয়। অবস্থাভেদে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত এই ধরনের ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও দৈনিক অধ্যবসায়ই পারে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে।