Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বুর্জ খলিফা; বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু দালান !

বর্তমান বিশ্বের বুকে মানুষ্য নির্মিত সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো হলো বুর্জ খলিফা। মানব প্রকৌশলের ইতিহাসের এটি এক অনন্য অর্জন। ২০১০ সালে চালু হবার পর থেকে, এখন পর্যন্ত অন্য কোন দালান বুর্জ খলিফার উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। 

 

তারপর মাত্র ছয় বছরের অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভবনটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নির্মাণ চলাকালীন সময়ে এর নাম বুজ দুবাই হিসেবে প্রচার করা হলেও পরে তা উদ্বোধনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর সম্মানে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বুর্জ খলিফা।   

 

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই দালানের উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা ২৭১৭ ফুট। ১৬৩ তলা বিশিষ্ট এই ভবন এতটাই উঁচু যে এর নিচতলা এবং সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশাল এই ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার সমান। ভবনের নিচে অবস্থিত ফোয়ারাটির নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ১৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড। এই ফোয়ারার প্রদর্শনী চলে প্রতি বুধবার থেকে শনিবার, সন্ধ্যা থেকে প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর।

 

আপনারা ভাবতে পারেন এত উঁচু দালানের কাজটা কি ? বুজ খলিফা একটি বহুমাত্রিক ভবন। এই ভবনে রয়েছে বহু নামী দামী রেস্টুরেন্ট, হোটেল, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস স্পেস, যোগাযোগ ও সম্প্রচার কেন্দ্র এবং এই ভবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ বুর্জ খলিফা পর্যবেক্ষণ ডেক। এই পর্যবেক্ষণ ডেক থেকে শহরের চারদিকে ৯০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দেখা যায়। একইভাবে ৯৫ কিলোমিটার দূর থেকেও বুর্জ খলিফার সর্বোচ্চ বিন্দু চোখে পড়ে।

 

বুর্জ খলিফার নকশা করা হয়েছে হাইমনোক্যালিস নামের একটি ফুলের আদলে। যা ধীরে ধীরে উপরে ওঠার সাথে সাথে এর এক একটি পাপড়ির দৈর্ঘ্য কমে এসেছে। ভবনটিতে রয়েছে তিনটি আলাদা প্রবেশপথ। একটি প্রবেশপথ আবাসিক ফ্লোর গুলোর জন্য, একটি হোটেলে যাওয়ার এবং অন্যটি বিভিন্ন অফিসে যাওয়ার জন্য। এই ভবনটির ভেতরে আছে এক হাজারেরও বেশি বিলাসবহুল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, ৪৩ তলা ও ৭৬ তলায় আছে সুইমিংপুল। বুর্জ খলিফায় থাকা আবাসিক হোটেলটিতে আছে ১৬০ টি বিলাসবহুল কক্ষ।

 

এসব লিফট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে অর্থাৎ এই লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার। লিফটে চড়ে নিচতলা থেকে ১২৪ তলার পর্যবেক্ষণ ডেকে উঠতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। এত দীর্ঘ লিফট থাকাটা অস্বাভাবিক নয় কারণ উচ্চতার দিক থেকে বুর্জ খলিফা আইফেল টাওয়ারের তিনগুণ এবং এম্পায়ার স্টেট দালানের প্রায় দ্বিগুণ।

 

বুর্জ খলিফার মতো সুউচ্চ আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরি করা হয় টিউব স্ট্রাকচার নামের একটি পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কম খরচে টেকসই বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায়। আপনারা নিশ্চয়ই জেনে অবাক হবেন, বুর্জ খলিফা সহ বর্তমান পৃথিবীর প্রায় সকল আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরিতে এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন একজন বাঙালি। যার নাম ফজলুর রহমান খান। বিশ্বব্যাপী তিনি এফ আর খান নামে পরিচিত।

 

এমনকি বুর্জ খলিফা ভবনের নকশাকারী ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আমেরিকার স্কিড মোর, ওওয়েংস এবং মেরিলের পরিচালক হিসেবেও ফজলুর রহমান খান দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নকশাকৃত সিয়াস টাওয়ার প্রায় দীর্ঘ ২৫ ছর পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে পরিচিত ছিলো। বাংলাদেশী মহান এই প্রকৌশলী শুধু বর্তমান পৃথিবীর ভবন নির্মাণ কাঠামোই বদলে দেয়নি বরং তিনি যেন মানব সভ্যতাকে পোঁছে দিয়েছেন নতুন এক মাত্রায়। এই জন্য তাকে বলা হয় আইনস্টাইন অফ স্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারিং।