Skip to content

৪ঠা মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা জানাবে ই-স্কিন

শরীরে পাতলা পলিথিনের মতো ইলেক্ট্রনিক্স প্রলেপ লাগিয়ে জানা যাবে অক্সিজেনের মাত্রা। এই প্রথম বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রনিক স্ক্রিন বা ই-স্কিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই স্ক্রিন দেখতে খুব পাতলা। এতে ডিসপ্লে আছে। এই ডিসপ্লে হাতে চামড়ার ওপর খুব সহজেই লাগানো যায়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ প্রযুক্তি সহজলভ্য হতে পারে।

 

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই ই-স্ক্রিন তৈরি করেছেন। এটি ওয়াটার স্প্রে ব্যবহার করে বুকের কাছে লাগিয়ে রাখা যাবে। এই ই-স্কিন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পরিধান করা যাবে। একটি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি ই-স্কিনে থাকা বিশেষ ব্যবস্থায় শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিন রঙ ফুটিয়ে তোলে। এ বিষয়ে সফল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে গবেষকরা রঙের পরিবর্তে সংখ্যা ও বর্ণ প্রদর্শনের জন্য কাজ করছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ই-স্কিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ নমনীয় উপাদান পলিভিনাইল অ্যালকোহল, যাতে স্বর্ণের একটি স্তর থাকে। ই-স্কিন মূলত পরিধানযোগ্য সেন্সর, যা হৃৎস্পন্দন ও মাংসপেশি নড়াচড়ার বৈদ্যুতিক সংকেত ধরতে পারে। ছোট্ট একটি তারহীন ট্রান্সমিটার বুকের কাছে বাঁধা থাকে, যা হৃৎস্পন্দনের তথ্য নিকটস্থ স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে বা ক্লাউডে পাঠায়। এতে অনেক দূরে বসেও চিকিৎসক সে তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

 

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টাকাও সমেয়া এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক। সিএনএন বলছে, এই ই-স্কিন অনুমোদন পেতে অবশ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হবে। তবে সমেয়া বলেছেন, তিনি এর সফলতা নিয়ে আশাবাদী। ই-স্কিন তৈরির ক্ষেত্রে তিনি সহযোগীদের সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

 

ই-স্কিন নকশা করা হয়েছে মূলত জাপানের দ্রুত বেড়ে যাওয়া বয়স্ক জনগণের কথা মাথায় রেখে। গবেষক সোমেয়া বলেন, দূরে বসে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিখুঁতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ই-স্কিন টেকসই বলে এটি বিভিন্ন ক্রনিক রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধের মতো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া এটি অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

 

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ই-স্কিনের বাজার ছিল ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ই-স্কিন অত্যন্ত নমনীয়, স্বয়ংক্রিয় মেরামত করার ক্ষমতা থাকায় এটি রোবোটিকস, প্রসথেটিক্স এবং স্বাস্থ্যের যত্নে ব্যবহারযোগ্য।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ