Skip to content

২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশন ও ফ্যাশন

প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে আমরা ফ্যাশন বলতে যা বুঝি তার সাথে চরফ্যাশনের কোনো মিল নেই। তারপরও কেন এই এলাকাটির নাম চরফ্যাশন রাখা হলো? আজ আমরা এই বিষয়ে জানবো।

চরফ্যাশন ভোলার দক্ষিণের একটি উপজেলা। আগে কখনো নোয়াখালী, কখনো বরিশাল আবার কখনো পটুয়াখালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। চরফ্যাশনের সঙ্গে ফ্যাশনের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় উপজেলার নামকরণের ইতিহাসে। 

একসময় অনেকগুলো ছোট চরে বিভক্ত ছিল চরফ্যাশন। ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে এই চরগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন বরিশালের (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে এইচ ফ্যাশন। তাঁর নামানুসারেই পরবর্তী সময়ে চরফ্যাশন নামকরণ করা হয় বলে জানা যায়। 

১৮৮৫ থেকে ১৮৮৭ সালের মধ্যে ওই এলাকার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে একটি বাজার গঠন করেন জে এইচ ফ্যাশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বাজারটির নাম চরফ্যাশন বাজার করেন মি. ডনোভান। আর এলাকার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বাজারটির নামের সঙ্গে মিলিয়ে পুরো এলাকার নামকরণ করা হয় চরফ্যাশন।

ডনোভানকে নিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। মাদারীপুরে ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। সেটির ওয়েবসাইটের ইতিহাস পাতায় ‘তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক মি. জেটি ডনোভান…’-এর উল্লেখ আছে। আবার গুগল ঘাঁটলে এডওয়ার্ড ওয়েস্টবি ডনোভান নামের এক ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তার খোঁজ মেলে, যিনি চীন, হংকং এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলগুলো ব্রিটিশ সেনাদলের প্রধান ছিলেন।

চরফ্যাশনে মানুষজন কম। বেশ নিরিবিলি। চরফ্যাশনের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে চর কুকরিমুকরি আর তারুয়ার রয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলের মহিষের দই, সুপারি, ইলিশ আর মিষ্টি যে বিখ্যাত।