Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সন্তানের বিকাশে প্যারেন্টিং

সন্তান জন্মের পর থেকে তার বেড়ে ওঠার জন্য তার মানসিক, শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ইত্যাদি দিকে তাকে সাহায্য করার প্রক্রিয়া হল প্যারেটিং। প্রতিটি মানুষ বড় হয়ে কেমন হবে তা নির্ভর করছে তাকে কোন পরিবেশে এবং কিভাবে বড় করা হয়েছে। মাতা-পিতা হিসেবে নিজের সন্তানকে কিভাবে বড় করবেন, কিভাবে কী শেখাবেন এসব ব্যাপার গুলোই প্যারেন্টিং। 

কোন মাতা-পিতাই বা চান তার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে? শুধু গড়ে তুলতে চাইলেই তো হবে না, তার জন্য চাই উপযুক্ত প্যারেন্টিং। যদিও আজকাল মাতা-পিতা দুজনেই কর্মব্যস্ততায় বাচ্চারা হয়ে উঠছে প্রযুক্তি নির্ভর। যা বাচ্চাদের মানসিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কর্মব্যস্ততার জন্য অনেক মাতা-পিতা তাদের সন্তানের খোঁজ-খবর ঠিক মত নিতে পারেন না। কিন্তু সন্তান ভুল করলেই বা পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে তাকে মানসিক এবং শারীরিক দুইভাবেই অত্যাচার করা হয়। এসবের পরেও মাতা-পিতা তাদের সন্তানের ভালো চান। কিন্তু শুধু ভালো চাইলে কিংবা ভালোবাসলেই হবে না। জন্মের পর থেকে সন্তানকে সময় দিতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে প্যারেন্টিং এর ব্যাপারে। 

যাতে আপনার সন্তানের মধ্যেও এই মানসিকতা বেড়ে ওঠে।  

সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য বাড়তি যত্নের প্রয়োজন কিন্তু সেটা সবসময় দরকার হয় না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি মনোযোগ না দেওয়াই হবে সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু এটাও বুঝতে যে হবে কোথায় তার বাড়তি যত্ন দরকার আর কোথায় সেটা না হলেও চলবে। যেমন হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে তা সামলে নিতে তাকেই সচেষ্ট থাকার দরকার এখানে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন নেই কিন্তু আবার তেলাপোকা, টিকটিকি দেখে ভয় পায় তখন ব্যাপারটা জরুরী ভাবে নিতে হবে। এসব ব্যাপারে অবহেলা করা উচিৎ নয়। 

আপনি যেমন চান আপনার কথা আপনার সন্তান মন দিয়ে শুনুক তেমনি শিশুরাও চায়, বড়রা তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। আপনি যদি সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনেন তাহলে তারা সমস্যা কথা বরং নিজেদের চাহিদা মেটানোর সমাধান দিয়ে যাবে। কারণ তারা শুধু নিজেদের সমস্যা নয়, সমস্যার সমাধানও খোঁজে কিন্তু তার জন্য দরকার বড়দের উৎসাহ। সন্তানকে সব সময় শাসন করা বা উপদেশ দেয়া যাবে না। তাদেরকে আগে বুঝতে হবে তারা কি চায় আর তার জন্য তার সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করতে হবে। 

আমরা মনে করে থাকি যে প্যারেন্টিং মানেই শিশুকে শান্ত, সুবোধ ও নিয়মানুবর্তী ভাবে বড় করে তোলা। কিন্তু এসবের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল একজন সুখী ও স্বাস্থ্যবান মানুষ হিসেবে তাকে গড়ে উঠতে সহায়তা করা। প্যারেন্টিং ব্যাপারটি খুব একটা সহজ কাজ হয়। যতই কঠিক হোক না কেনো সন্তানের সুষ্ঠ বিকাশের জন্য এইদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতেই হবে।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ